Somoy TV
রাতের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লে শরীরে ঘটে যেতে পারে বড় বিপদ। ধীরে ধীরে আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে জটিল রোগ। এর থেকে বদহজম, বুকজ্বালা, অ্যাসিডিটি, ওজন বৃদ্ধি এমনকি স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। খাওয়া আর ঘুমানোর মধ্যে কতটা সময়ের ব্যবধান হওয়া উচিত জানেন?১. হজমে বাধা দেয়: প্রাথমিকভাবে এর প্রভাব আপনার হজমশক্তির ওপরেই পড়বে। ঘুমাবার সময় আমাদের শরীরকে খাবার হজম করতে বেশি কষ্ট করতে হয়। নিউট্রিশনিস্ট রূপালী দত্ত বলেছেন, ‘খাবার পরেই শুয়ে পড়লে আপনার খাবার হজম হতে দেরি হয়। ইন্টেস্টাইনের দেয়ালের ভিতর দিয়ে খাবার প্রবেশ করতে পারে না। ফলে গ্যাস, এসিড, বুকজ্বালা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। ঘুমের বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায় এবং অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে ওজন ও বৃদ্ধি পায়।’ ২. অপর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমানোর অল্প সময় আগে খাবার খেলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত, যখন আপনি কোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার খান, তখন তার ফলে আপনার শরীরে যে অহেতুক এনার্জি বুস্ট হয়, তা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। আরও পড়ুন: খালি পেটে যেসব খাবার খেলেই বিপদ! ৩. ওজন বেড়ে যেতে পারে: হজমের দেরি আর অপর্যাপ্ত ঘুম- ওজন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। দিনের শেষে মেটাবলিজম কম হয়, ফলে আপনি যা কিছুই খান না কেন, তা বার্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। হজম ভালো হওয়ার জন্য একটু আগে ডিনার করা ভালো। আমরা যা কিছু খাই, তা থেকে যদি ক্যালরি তৈরি না হয়, তবে তা ফ্যাট হিসেবে আমাদের শরীরে জমা হতে থাকে। আমাদের শরীর সূর্যের গতিবিধির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই আমরা যত তাড়াতাড়ি খাবো তত তাড়াতাড়ি খাবারের পুষ্টিগুণ আমাদের শরীরে শোষিত হবে। খেতে দেরী হলে খাবারের সমস্ত পুষ্টিগুণ শরীরে শোষিত না হয়ে ফ্যাট আকারে জমতে থাকবে। ৪. বুকে জ্বালা: খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই শুয়ে পড়লে বুকজ্বালা এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে থাকে। খাবার পরেই পেটে চাপ দিয়ে শুয়ে থাকলে এই অবস্থা আরো বাজে আকার ধারণ করবে। সমীক্ষায় জানা গেছে, অ্যাসিডিটির ফলে স্লিপ অপনিয়া হতে পারে, যার থেকে স্ট্রোক পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বদহজমের ফলে ব্লাড কোলেস্টেরল ও ব্লাড প্রেসার বেড়ে যায়, যা হার্টের পক্ষে ক্ষতিকর। আরও পড়ুন: রান্নায় অতিরিক্ত তেল খাচ্ছেন? দেখে নিন নীরব হুমকি রাতের খাওয়া আর ঘুমের মধ্যে মিনিমাম কতক্ষণ গ্যাপ থাকা দরকার?রাতের খাবার এবং ঘুমের মধ্যে অন্তত ৩ ঘণ্টা গ্যাপ থাকা প্রয়োজন। এর ফলে বদহজম, বুকজ্বালা এবং অন্যান্য স্লিপ ডিসঅর্ডারের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। ভরা পেটে ঘুমালে শরীরে মেটাবলিজম কমে যায়, ফলে ওজন বৃদ্ধি ও ওবেসিটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
Go to News Site