Collector
‘আমি ভেবেছিলাম মারা যাচ্ছি, যেন একটি কফিনের ভেতরে আছি’ | Collector
‘আমি ভেবেছিলাম মারা যাচ্ছি, যেন একটি কফিনের ভেতরে আছি’
Jagonews24

‘আমি ভেবেছিলাম মারা যাচ্ছি, যেন একটি কফিনের ভেতরে আছি’

নেইমারের মতো কোনো খেলোয়াড়, যার কিনা ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোল করার রেকর্ড। সেই নেইমারই ২০১৩ কনফেডারেশন কাপের পর কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা আর জিততে পারেননি, এটি খুবই বিস্ময়কর। ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে উঠলেও লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার কাছে ট্রফি হাতছাড়া হয় তার। সেই ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছিলেন নেইমার, কিন্তু নিজ দেশের মাঠেই হার এড়াতে পারেননি তিনি। পরের বছরই ২০২২ কাতার ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য সেমিফাইনাল লড়াই নিয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রোয়েশিয়া। অতিরিক্ত সময়ে দারুণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন নেইমার। কিন্তু পরক্ষণেই গোল হজম করে ব্রাজিলও। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা শেষেও খেলা থাকে ড্রে। টাইব্রেকারে পঞ্চম শটটি নেওয়ার কথা ছিল নেইমারের। কিন্তু আর আগেই রদ্রিগো ও মারকিনিউস মিস করায় বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রাজিলের। এখন দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে বসবে ৪৮ দলের এই আসর। সেই আসরে নেইমারের খেলা নিয়ে রয়েছে তুমুল অনিশ্চয়তা। আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২০২২ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচটি হারার পর অনুভূতি নিয়ে কথা বলেছেন নেইমার। নেইমার জানিয়েছেন, ২০২২ সালের ওই হার তার জন্য ভয়াবহ মানসিক অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি এমন অনুভূতির কথা বলেছেন, যেখানে মনে হয়েছিল তিনি যেন মারা যাচ্ছেন বা ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমি মারা যাচ্ছি। ম্যাচের পর আমরা হোটেলে গিয়েছিলাম; মনে হচ্ছিল পৃথিবী শেষ হয়ে গেছে। আমি দেখছিলাম আমার শেষকৃত্য কেমন হবে। আমি ঈশ্বরের কসম করছি। আমি একটি ছোট ঘরে বসেছিলাম, আর সবাই আসতে শুরু করেছিল। আমার পরিবার এলো, তারপর আরও মানুষ আসতে থাকলো। সবাঈ লাল চোখে, কোনো কথা না বলে। মনে হচ্ছিল আমি যেন একটি কফিনের ভেতরে আছি, আর সবাই বলছে, ‘আরে, তুমি এখনো বেঁচে আছো?’—এটাই ছিল আমার অনুভূতি।’ নেইমার জুনিয়র বর্তমানে মানসিকভাবে একটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেছেন, আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ তার জন্য শেষ সুযোগ হতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্রফি জেতার। ইনজুরি যদি তাকে বারবার ভোগায়, তাহলে এটি হতে পারে ব্রাজিলের হয়ে তার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও। তবে তার স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া এখনই নিশ্চিত নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাতে, যিনি শেষ পর্যন্ত ঠিক করবেন নেইমার দলে থাকবেন কি না। সবমিলিয়ে, এটি নেইমারের ক্যারিয়ারের এক অনিশ্চয়তার সময়, যেখানে তার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ফিটনেস ও নির্বাচনের ওপর। আইএন

Go to News Site