Collector
কার্যকারিতা হারাল ২০ অধ্যাদেশ, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? | Collector
কার্যকারিতা হারাল ২০ অধ্যাদেশ, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
Somoy TV

কার্যকারিতা হারাল ২০ অধ্যাদেশ, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে কার্যকারিতা হারিয়েছে ২০টি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের বৈধতা না থাকায় ক্ষুব্ধ বিরোধী দল। বিশেষজ্ঞদের মতে, তড়িঘড়ি করে অনেক অধ্যাদেশ জারিতে সংকট তৈরি হয়েছে। তাই যাচাই-বাছাই করেই এগুলো আইনে রূপান্তরের পথে হাঁটা উচিত।সংসদ অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ পর্যবেক্ষণে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীনকে সভাপতি করে এতে সদস্য করা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ ১৪ জন সংসদ সদস্যকে। যার ৩ জন বিরোধী দলের। কয়েক দফা বৈঠক শেষে সংসদে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা উত্থাপিত হয়, যাতে ৯৮টি অধ্যাদেশ হবহু, ১৫টি সংশোধনীসহ উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। বাকি ২০টির ৪টি রহিতকরণ এবং ১৬টি এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করে বিশেষ কমিটি। বেশ কিছু পয়েন্টে নোট অব ডিসেন্ট দেন বিরোধী দলের সদস্যরা। পরে ধারাবাহিকভাবে সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হতে থাকে এসব অধ্যাদেশ। সংসদ অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে আইনে রূপান্তরের বাধ্যবাধকতায় দিনে দুই বেলা করে অধিবেশন বসতে শুরু করে। সবশেষ শুক্রবারও (১০ এপ্রিল) বসে অধিবেশন। এতে ১১৭টি অধ্যাদেশ ৯১টি বিলে পাস হয়। ফলে ৪টি রহিতকরণ বিল এবং ১৬টি উত্থাপিত না হওয়াত মোট ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারায়। বিল উত্থাপনকে ঘিরে তীব্র বিরোধিতা এবং দুই দফা ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ করে পুরনো ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে বিএনপি। আরও পড়ুন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ / প্রথম অধিবেশনে শুক্রবার পর্যন্ত ৯১ বিল পাস রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক কাজী মাহবুবুর রহমানের মতে, শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে অনেক অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, যাতে তৈরি হয়েছে সংকট। তার মতে, যাচাই-বাছাই করেই এগুলো আইনে রূপান্তর হওয়া জরুরি। অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে তো কোনো দল ক্ষমতায় আসেনি। অন্তর্বর্তী সরকার তাদের মেয়াদ শেষের কয়েক দিন আগে মানবাধিকার কমিশন তৈরি করে গেছে। এটা তো তারা তৈরি না করলেও পারতেন! এটা তো নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দিতে পারতেন! ২০২৪ সালে গড়ে প্রতি ৯ দিনে একটি অধ্যাদেশ, আর ২০২৫ সালে প্রতি ৪ দিনে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই ছাড়া ছেড়ে দেয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না।’ অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার সংসদ ওয়াকআউটকে ইতিবাচক মনে করেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক নিস্তার জাহান। জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানে সংসদের বাইরেও আলোচনা অব্যাহত রাখার তাগিদ তার। আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার সংসদে যে ৩১ বিল পাস তিনি বলেন, সংসদে যেকোনো একটা ইস্যুতে ওয়াকআউট করে ফেলাটা ভালো কিছু না। বিরোধী দলের যে শুধু সংসদের প্রথমে আলোচনাকেই শেষ ধরে রাখতে হবে-- সেটার কোনো মানে হয় না। এটা তারা ব্যক্তিগতভাবে নেতা পর্যায়ে আলোচনা করতে পারে, যেটা বিভিন্ন দেশে হয়। এরপর সংসদে আলোচনা হতে পারে।   তবে সংসদে তর্কবিতর্ক ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন দুই বিশ্লেষকই। টেকসই সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংসদকে আরও কার্যকর করার তাগিদ তাদের।

Go to News Site