Collector
মৌলভীবাজারের ‘দুঃখ’ মনু নদী, স্বাধীনতার পর একবারের জন্যও হয়নি খনন | Collector
মৌলভীবাজারের ‘দুঃখ’ মনু নদী, স্বাধীনতার পর একবারের জন্যও হয়নি খনন
Somoy TV

মৌলভীবাজারের ‘দুঃখ’ মনু নদী, স্বাধীনতার পর একবারের জন্যও হয়নি খনন

স্বাধীনতার পর পেরিয়ে গেছে বহু বছর। তবে একবারও খনন হয়নি মৌলভীবাজারের পাহাড়ি খরস্রোতা নদী 'মনু'। বর্ষায় ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পলি-বালিতে এ নদী ভরাট হয়ে গেছে। এতে নাব্যতা হারিয়ে বর্ষায় নদীর দুকূল উপচে বা বাঁধ ভেঙে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ নদী যেন এ অঞ্চলের দুঃখ হয়ে উঠেছে। বন্যা থেকে রক্ষায় আগেভাগে নদী খননের দাবি উঠেছে।ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি খরস্রোতা নদী মনু। এক সময় এ নদী প্রশস্ত ও গভীরতা থাকায় মৌলভীবাজার জেলার লোকজনের ব্যবসা-বাণিজ্যে এবং যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল মনু নদী। সেই সাথে এ নদীকে ঘিরে নানা প্রজাতীর সুস্বাদু মাছের ব্যাপক খ্যাতি ছিল। তবে প্রতি বর্ষায় উজান থেকে আসা লাখ লাখ টন পলি-বালিতে এ নদীর তলদেশ অনেক আগেই ভরাট হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছরেও একবার খনন করা হয়নি এ নদী। এতে নদীর তলদেশে জমা পলিবালিতে স্থানে স্থানে জেগে উঠেছে চর। যার ফলে নাব্যতা হারিয়ে প্রতি বর্ষায় নদীর পানি ফুলেফেঁপে প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে বা বাঁধ ভেঙ্গে জেলা শহরসহ মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর ও কুলাউড়া এ তিন উপজেলাবাসির মানুষের জন্য নিত্য নৈমিত্রিক চরম দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্যার পানিতে শহর-গ্রাম পর্যন্ত ঘরবাড়ি সড়ক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে প্রতিবছরই ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্থায়ীভাবে বন্যা থেকে রক্ষা এবং নদীর নাব্যতা ফিরাতে আগেভাগে নদী খনন কাজের জোর দাবি করছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও শুষ্ক মৌসুমে পুরো নদী একদম শুকিয়ে মরা খালে রূপ নেয়। তখন মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত ভাবে পলিবালি উত্তোলন নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ বিপন্ন করে তুলে। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মো. ফজলুল আলী নদীর পাড়ে তার বসবাস জানিয়ে সময় সংবাদকে জানালেন, এ নদী বর্ষায় যে রুদ্র মূর্তি ধারণ করে এতে শহরের মানুষ রাত জেগে পাহারা দিতে হয়। তিনি জানান, শুধুমাত্র খননের অভাবে নদী নাব্যতা হারিয়েছে। আরও পড়ুন: উত্তরে নিখোঁজ ৫০ নদী! জেলা শহরের একজন সিনিয়র সাবেক ব্যাংকার মস্তাক আহমদ চৌধুরী মম বললেন, এ নদীকে ঘিরেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। তবে তার শৈশবের সেই নদীকে তিনি খোঁজে পান না। পরিবেশবাদি সংগঠন ভয়েস অব মনুর প্রধান নির্বাহী আ স ম সালেহ সোহেল সময় সংবাদকে ক্ষোভের সাথে জানালেন, কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ পুননির্মাণ এবং ব্লকের কাজ হচ্ছে। এতে সমস্যা নেই। তবে আগেভাগে নদী খননের প্রয়োজন। এ জেলার লোকজন বহু আগ থেকেই নদী খননের দাবি জানাচ্ছে। আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে নদীভাঙনে সড়ক বিপর্যস্ত, ঝুঁকিতে তীর রক্ষা বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ নদীর খনন বিষয়ে বলেন, আপাতত এ রকম কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে নদী সমীক্ষায় খননের প্রয়োজনীয়তা দেখা গেলে খনন করা হবে। মনু নদী ভারতের ত্রিপুরার ৭২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে মিশেছে।

Go to News Site