Somoy TV
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত পাহাড়ি উপজাতি জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব উদযাপন করা হয়েছে।রোববার (১২ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি, আনন্দ শোভাযাত্রা ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করেন তারা। পাহাড়ি অঞ্চলের নতুন পোশাক পড়ে আনন্দ শোভাযাত্রা করে উৎসবমুখর পরিবেশে নদীর তীরে মিলিত হন শত শত উপজাতি নারী অউরুষ।এরপর নদীতে ফুল দিয়ে সাজানো প্লেট ভাসিয়ে দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনায় শামিল হন তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ও আশপাশের এলাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আসা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ পাহাড়ি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। তাদের অন্যতম প্রধান জাতিগত ও সাংস্কৃতিক উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই এবং বিজুকে সম্মিলিতভাবে বৈসাবি উৎসব হিসেবে উদযাপন করা হয়। বিজু উৎসব উদযাপনকারী কয়েকজন পাহাড়ি নারী-পুরুষ জানান, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পাহাড়ি উপজাতি গোষ্ঠীর মানুষ প্রতি বছর এই বৈসারী বিঝু উৎসব উদযাপন করে থাকেন। তবে নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘ আট বছর ধরে বসবাসরত পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবী হওয়ায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মাত্র একদিনের ছুটিতে তারা নিজেদের বাড়িতে যেতে পারেন না। তাই দীর্ঘদিন ধরে তাদের প্রাণের উৎসবটি উদযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এ বছর তারা নারায়ণগঞ্জেই উৎসবটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আরও পড়ুন: কর্ণফুলীতে ফুল ভাসিয়ে তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’ বরণদীর্ঘদিন পর নিজেদের জাতিগত উৎসব পালন করতে পেরে বেশ আনন্দিত হয়েছেন পাহাড়ি উপজাতি পরিবারগুলো। আগামী বছর থেকে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যাশার কথাও জানান তারা। উৎসবের আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা সুমিত বড়ুয়া বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এ কারণা তারা বৈশাখ উপলক্ষে বাড়িতে যেতে পারেন না। তাদের নিয়েই আমরা সম্মিলিতভাবে এই উৎসবের আয়োজন করেছি। নারায়ণগঞ্জে এবারই আমরা প্রথমবারের মতো আমাদের উৎসবটি উদযাপন করেছি। আমরা প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা পেয়েছি। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা সেই প্রত্যাশা করি নতুন বছর সবার সুন্দর ও আনন্দে কাটুক। নতুন বছরটি সবার জন্য মঙ্গলজনক হোক।’
Go to News Site