Collector
আলোচনা ‘ব্যর্থ’: ফের সংঘাতে জড়াতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র? | Collector
আলোচনা ‘ব্যর্থ’: ফের সংঘাতে জড়াতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?
Somoy TV

আলোচনা ‘ব্যর্থ’: ফের সংঘাতে জড়াতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ফের সংঘাত শুরুর আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। অনেকে মনে করছেন, এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান এবং তেহরানের অনড় মনোভাবের কারণে পারস্য উপসাগরে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠকের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধ হয়ে শান্তি ফিরবে– এমন সম্ভাবনা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। পাকিস্তান থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের দেশে ফিরে যাওয়াকে বিশ্লেষকরা যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক পদক্ষেপের জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। অনেকের মতে, দুই দেশের মধ্যে আস্থার যে সংকট ছিল, তা এই উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় দূর করা সম্ভব হয়নি। পরমাণু ইস্যুতে ইরানের অনড় অবস্থানকে বিশ্লেষকরা দেখছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি ঢাল হিসেবে। ইরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে এই ইস্যুতে ছাড় দেয়নি যুক্তরাষ্ট্রও। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে গেলে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতির ওপর আলোচনা ব্যর্থতার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।  আরও পড়ুন: হরমুজ ইরানের হাতে, টোল অবশ্যই দিতে হবে: ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ফের বিঘ্নিত হতে পারে। ইরান যদি তার জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে, তবে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড ছাড়াবে। অন্যদিকে হরমুজে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই হুমকি দিয়ে রাখায় পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও ধস নামাতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি ইরানকে আরও রক্ষণশীল করে তুলতে পারে। তবে কেউ কেউ বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অমিমাংসিত ইস্যু একদিনে সমাধান হওয়ার বিষয় না। এখনও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও মনে করেন কেউ কেউ। এদিকে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালীর বিষয়টি উল্লেখ করেননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ নিয়ে মুখ খুলেছেন ইরানের ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সাধারণত যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালী ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনায় ছিল একটি বড় জটিলতার কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর থাকা শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।  আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার সময় ইউএফসি ফাইট দেখছিলেন ট্রাম্প! ইরানের ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার হাজি বাবাই-এর বরাত দিয়ে মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের জন্য হরমুজ প্রণালী একটি ‘রেড লাইন’। হাজি বাবাই বলেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং এর টোল ইরানি মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১১ এপ্রিল) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, প্রণালীটি ‘শিগগিরই খুলে দেয়া হবে’। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও শনিবার জানিয়েছে, দুটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে’ এবং এটি ছিল সমুদ্রপথ থেকে মাইন অপসারণের বৃহত্তর একটি মিশনের অংশ। তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, ওই দুটি জাহাজ হরমুজ দিয়ে অতিক্রম করেনি।

Go to News Site