Collector
চার মাসে ১১ ব্যাটার ‘রিটায়ার্ড আউট’— জিতেছে মাত্র ৪ দল | Collector
চার মাসে ১১ ব্যাটার ‘রিটায়ার্ড আউট’— জিতেছে মাত্র ৪ দল
Somoy TV

চার মাসে ১১ ব্যাটার ‘রিটায়ার্ড আউট’— জিতেছে মাত্র ৪ দল

একই দিনে আইপিএল এবং পিএসএল— দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই দেখা গেছে রিটায়ার্ড আউটের ঘটনা। ভারতে আয়ুশ মাতরে ও পাকিস্তানের সাদ বেগ— দুজনেই রিটায়ার্ড আউট হয়েছেন। দুজনই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেছিলেন, তবু শেষ পর্যন্ত ‘রিটায়ার্ড আউট’ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। কারণ, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুধু ফিফটি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী দলকে এগিয়ে নেওয়াই আসল চ্যালেঞ্জ। সেই কৌশলগত ভাবনা থেকেই শনিবার (১১ এপ্রিল) চেন্নাই সুপার কিংস আয়ুশকে এবং করাচি কিংস সাদকে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।রিটায়ার্ড আউট আর রিটায়ার্ড হার্ট— নামের মিল থাকলেও পার্থক্য আছে বেশ। একজন ব্যাটার ব্যাটিং করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা চোট পেলে মাঠের বাইরে চলে যান, তখন তাকে বলা হয় রিটায়ার্ড হার্ট। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে তিনি আবার ব্যাটিংয়ে নামতে পারেন। তবে তিনি মাঠে নামতে না পারলেও এটি অবসরপ্রাপ্ত-অপরাজিত হিসেবে গণ্য হয়।  তবে রিটায়ার্ড আউট তাহলে কি? এটা হচ্ছে দলের কোনো ব্যাটারকে চাইলেই তুলে নেয়া যায়। আম্পায়ারের অনুমতি না নিয়েই যদি কোনো ব্যাটার স্বেচ্ছায় মাঠ থেকে উঠে যান, তাহলে সেটি রিটায়ার্ড আউট হিসেবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে সেই ব্যাটার ওই ইনিংসে পরবর্তীতে আর ব্যাটিং করতে পারেন না।  চলতি বছরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ‘রিটায়ার্ড আউট’ যেন আর বিরল কোনো ঘটনা নয়; বরং ধীরে ধীরে কৌশলগত একটি নিয়মিত দৃশ্য হয়ে উঠছে। তবে এবারের আইপিএলে এই সিদ্ধান্তের প্রথম শিকার হন আয়ুশ, যা তাকে আলাদাভাবে আলোচনায় এনেছে। অন্যদিকে সাদের ঘটনা আরও বিশেষ— পিএসএলের ইতিহাসেই এই প্রথম কোনো ব্যাটসম্যানকে এভাবে মাঠ ছাড়তে হলো।  আরও পড়ুন: পিএসএলে আরও একদিন খেলার অনাপত্তিপত্র পেলেন শরিফুল-রানা ৩৬ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলার পর আয়ুশকে তুলে নিয়ে গতকাল ক্রিজে আনা হয় শিবম দুবেকে। দ্রুত রান তোলার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন, আর দুবে সেই দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই পালন করেন— মাত্র ১০ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।  অন্যদিকে সাদের ইনিংসও থামে ৩৭ বলে ৫৩ রানে। একই কৌশলে তাকেও মাঠ ছাড়তে বলা হয়, যেন শেষদিকে রান তোলার গতি বাড়ানো যায়। তার জায়গায় নামানো হয় পেস বোলিং অলরাউন্ডার আব্বাস আফ্রিদিকে। মজার বিষয় হলো, নিজের খেলা শেষ করার আগে শেষ বলটিতে চার মেরেই বিদায় নেন সাদ। তবে তার বদলি হিসেবে নামা আফ্রিদি ব্যাট হাতে খুব একটা ছাপ ফেলতে পারেননি— ২ বল খেলে কোনো রানই করতে পারেননি।  এই দুজনকে মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত মোট ৬৯ জন ব্যাটসম্যান ‘রিটায়ার্ড আউট’ হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে। গত বছরে এভাবে আউট হয়েছিলেন ২৯ জন। অর্থাৎ ২০২৫ সালের শুরু থেকেই এই কৌশলের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে— সব মিলিয়ে সেখানে ১৫ জন ব্যাটসম্যান রিটায়ার্ড আউট হয়েছেন।  তবে তুলনামূলক নতুন এই কৌশলের কার্যকারিতা এখনও প্রশ্নের মুখে। কখনও এটি দলকে বাড়তি সুবিধা এনে দিলেও, অনেক সময় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১১ বার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কিন্তু জয়ের দেখা মিলেছে মাত্র চারবার। এমনকি সেই ম্যাচগুলোতেও নতুন নামা ব্যাটসম্যানদের অবদান কতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছে, তা নিয়েও সংশয় থেকেই যাচ্ছে।  আরও পড়ুন: আম্পায়ারকে মারলে কি শাস্তি হবে—এমন মন্তব্য করে নিষিদ্ধ নেপালের ক্রিকেটার গত ৭ জানুয়ারি এসএ টি-টুয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস রোস্টন চেজকে তুলে নেয়, যখন তিনি ১৫ বলে ২৪ রানে খেলছিলেন। দ্রুত রান তোলার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়। কিন্তু পরিকল্পনা সফল হয়নি— তার বদলে নামা শেরফান রাদারফোর্ড ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে আউট হয়ে যান।  চেজ মাঠ ছাড়ার পর দলের ব্যাটিং গতি আরও মন্থর হয়ে পড়ে। ইনিংসের শেষ ১০ বলে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালস যোগ করতে পেরেছিল মাত্র ১০ রান, যা এই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।  একই চিত্র দেখা গেছে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সুপার স্ম্যাশেও। ৮ জানুয়ারি নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ১২ বলে ৫ রান করা টিম প্রিঙ্গলকে রিটায়ার্ড আউট করে দ্রুত রান তোলার আশায়। কিন্তু তার বদলে নামা বেন পোমারে ৫ বলে করতে পারেন মাত্র ১ রান— ফলে পরিকল্পনাটি সেখানেও কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। গতকাল দুবে কিছুটা অবদান রাখতে পারলেও, বর্তমান আইপিএলের মানদণ্ডে ১০ বলে ২০ রানকে খুব বড় কিছু বলা যায় না।  মার্চে ঘানার এক ম্যাচেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছিল, কিন্তু ফল ছিল হতাশাজনক। মালাউইর দেওয়া ৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ভারানি মাজিরে ৪১ বলে ৩০ রান করে দলকে চাপে ফেলে দেন। সেই অবস্থায় তাকে তুলে নিয়ে ক্রিজে পাঠানো হয় আইজাক আবয়াগাকে। তবে পরিস্থিতি বদলানোর বদলে আরও জটিল হয়ে ওঠে— প্রথম বলেই আউট হয়ে যান আবয়াগা, আর দলের রান তোলার গতি আর বাড়েনি।

Go to News Site