Jagonews24
দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের উন্নয়নে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘এসএমই ফাইন্ডেশনের অনুরোধে ৩০০ কোটি টাকার তহবিল দুই হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে। আমরা এসএমই খাতের বিকাশ চাই, উত্তরোত্তর বিকাশ চাই। এই বিকাশের প্রয়োজনে যে বাস্তবসম্মত আহ্বান নিয়ে আপনারা এগিয়ে আসবেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার আপনাদের সঙ্গে থাকবে।’ রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে এসএমই বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এ মেলা সাত দিনব্যাপী চলবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমান, ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমুখ। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে এমএসএমই খাত। বাস্তবিকভাবে আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান হচ্ছে মোটে ১৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির আকার হচ্ছে ১৫ শতাংশ। বাকি ৮৫ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক। তো অপ্রাতিষ্ঠানিকদের মধ্যে বড় অংশটাই এমএসএমই।’ ‘তিন-চার দিন আগে আমরা এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় ক্রেডিট হোলসেলিংয়ের জন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। এই টাকা প্রায় ১৫টি ব্যাংক এবং চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছাবে,’ যোগ করেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘আজকে এখানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছিলেন যে, এই ৩০০ কোটি টাকা যদি দুই হাজার কোটি টাকা হয় তাহলে এসএমই খাতের জন্য ভালো হবে। আমি ওনাকে কথা দিয়েছি, এই ৩০০ কোটি টাকার তহবিল দুই হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে।’ খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘পণ্যের মধ্যে বৈচিত্র্য আনা, বেশি বেশি মানুষকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করা- এগুলো হচ্ছে আপনাদের কাজ। আপনাদের জন্য ফ্যাসিলিটেটর (সহায়ককারী) হিসেবে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।’ এসএমই বৈশাখী মেলা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চালু থাকবে। আয়োজকরা জানান, মেলায় ১৫০টিরও বেশি স্টলে হস্ত ও কারুশিল্প পণ্য, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, প্রস্তুত খাবার ও স্ট্রিট ফুড, কৃত্রিম গয়না, চামড়াজাত পণ্য এবং সুগন্ধি ও লাইফস্টাইল পণ্যের এসএমই উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন। এটি শুধু একটি মেলা নয়, পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক আয়োজন, যেখানে একসঙ্গে উপভোগ করা যাবে কেনাকাটা, বিনোদন, লাইভ পরিবেশনা ও লোকজ ঐতিহ্যের অসাধারণ সমন্বয়। ইএইচটি/একিউএফ
Go to News Site