Somoy TV
বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকে আবারও অস্থিরতা শুরুর মধ্যেই ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ওমর ফারুক খান ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী দেড় মাস তিনি ছুটিতে থাকবেন; সোমবার থেকে তার এ ছুটি কার্যকর হবে।রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে ব্যাংকের পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পর্ষদে থাকা ব্যাংকটির এক পরিচালক জানান, এমডি ব্যক্তিগত কারণে ছুটির আবেদন করেছিলেন; আজ পর্ষদ সভায় তার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। দেড় মাসের ছুটিতে তিনি বিদেশ যাবেন। একইসঙ্গে সভায় ব্যাংকটির অতিরিক্ত এমডি আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এমডি মূলত বিদেশ সফরের জন্য ১৫ দিনের ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পর্ষদ তাকে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত অর্থাৎ দেড় মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে। পর্ষদের চেয়ারম্যান মৌখিকভাবে এমডিকে বলেছেন, আপনি দেড়-দুই মাস ছুটি কাটান, সমস্যা নেই। এ নিয়ে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমডি স্বেচ্ছায় ছুটিতে গেছেন নাকি তাকে কৌশলে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এ নিয়ে চলছে গুঞ্জন। এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে আব্দুল জলিল নামের একজন পরিচালককে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তিনি ব্যাংকটির পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে একমাত্র জামায়াতপন্থি হিসেব পরিচিত ছিলেন। তাকে সরিয়ে এসএম আব্দুল হামিদ এফসিএকে পরিচালক করা হয়েছে। ছুটি বাধ্যতামূলক নাকি ব্যক্তিগত, এ বিষয়ে জানতে এমডি ওমর ফারুক খানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর আগে ব্যাংকটির সাবেক এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় গত বছর মে মাসে তাকে অপসারণ করা হয়। পরে ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে ওমর ফারুক খানকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওমর ফারুক খান ইসলামী ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকিং খাতে তার রয়েছে ৩৭ বছরের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। ইসলামী ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং উইং, প্রধান কার্যালয়, বিভিন্ন ডিভিশন, জোন অফিস ও শাখায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৬ সালে ইসলামী ব্যাংকে নিজের কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে তিনি সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও ক্রেডিট ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন।
Go to News Site