Collector
ইরানের ‘অবশিষ্ট সব নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ট্রাম্পের, ফের সংঘাতের পথে মধ্যপ্রাচ্য? | Collector
ইরানের ‘অবশিষ্ট সব নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ট্রাম্পের, ফের সংঘাতের পথে মধ্যপ্রাচ্য?
Somoy TV

ইরানের ‘অবশিষ্ট সব নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি ট্রাম্পের, ফের সংঘাতের পথে মধ্যপ্রাচ্য?

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘ইরানের যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তা নিশ্চিহ্ন করে দেবে’ বলে হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এ হুমকি দিলেন তিনি।প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই আলোচনা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশ দু’টির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে রোববার (১২ এপ্রিল) কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আবার সংঘর্ষ শুরু না হলেও বিশ্বনেতারা দ্রুত উভয় পক্ষকে বিদ্যমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার পর পাকিস্তান ত্যাগ করেন এবং জানান, ওয়াশিংটন তেহরানকে তাদের ‘চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব’ দিয়েছিল।  হরমুজ সতর্কতা এবং আলোচনা ভেস্তে যাওয়া ইসলামাবাদের আলোচনা শেষে ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া দুটি আলাদা পোস্টে ট্রাম্প জানান, প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে এবং বেশিরভাগ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। তবে তিনি বলেন, একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল পারমাণবিক ইস্যু। ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা সব জাহাজকে অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।’ পোস্টে তিনি লেখেন, বৈঠকটি ভালোভাবেই হয়েছে, বেশিরভাগ বিষয়েই একমত হওয়া গেছে, কিন্তু একমাত্র যে বিষয়টি সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্র, সে বিষয়ে একমত হওয়া যায়নি। বিশ্বের সেরা মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ বা প্রস্থানের চেষ্টাকারী যেকোনো এবং সমস্ত জাহাজকে অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। ট্রাম্প জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার তাকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে তিনি ‘অত্যন্ত অসাধারণ ব্যক্তি’ বলেও উল্লেখ করেন।  আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার সময় ইউএফসি ফাইট দেখছিলেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বৈঠকটি খুব ভোরে শুরু হয়ে সারা রাত ধরে চলেছে। জানান, যেসব বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত বলতে পারেন, কিন্তু পারমাণবিক বিষয়ের তুলনায় সেগুলোর কোনোটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়।  পারমাণবিক ইস্যু ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একটাই– ইরান তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে নারাজ।’ তিনি আরও লেখেন, অনেক দিক থেকে, যে বিষয়গুলোতে সম্মত হওয়া গেছে তা আমাদের সামরিক অভিযান শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে ভালো। কিন্তু পারমাণবিক শক্তিকে এমন অস্থির, কঠিন ও অপ্রত্যাশিত লোকদের হাতে তুলে দেওয়ার তুলনায় ওই সব বিষয়ের কোনো মূল্যই নেই। ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না’ উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানের প্রতিনিধি বাঘের গালিবাফ, আব্বাস আরাঘচি এবং আলী বাঘেরির সঙ্গে ‘সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক’ গড়ে তুলেছিলেন। তবে এই ব্যক্তিগত সম্পর্ক মৌলিক অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেনি। ট্রাম্পের ভাষ্য, “বৈঠকের লক্ষ্য ছিল এই ভিত্তিতে পৌঁছানো যে, ‘সবার অবাধ প্রবেশাধিকার এবং অবাধ প্রস্থানের অনুমতি’ (হরমুজ প্রণালীতে) থাকবে। কিন্তু, ‘হয়তো কোথাও একটি মাইন থাকতে পারে যার সম্পর্কে কেউ জানে না’– এই দাবি করে ইরান এতে অনুমতি দেয়নি।”  আরও পড়ুন: হরমুজে প্রবেশ করা বা ছেড়ে আসা সব জাহাজ আটকে দেবো: ট্রাম্প ‘লকড এন্ড লোডেড’ ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ‘বিশ্বব্যাপী চাঁদাবাজি’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, বিভিন্ন দেশের নেতারা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই চাঁদাবাজির শিকার হবে না। ইরানকে টোল দিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা এমন প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করে আটক করতে মার্কিন বাহিনীকে নির্দেশ দেয়ার কথাও জানান তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘যারা অবৈধ টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তাদের যাতায়াত নিরাপদ হবে না।’ মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ইরানিদের পেতে রাখা মাইনগুলোও ধ্বংস করা শুরু করবে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, যে পরিস্থিতি ইতোমধ্যে দেশটিকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে, তার অবসান কীভাবে ঘটাতে হয় তা ইরানের চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না। দেশটির নৌবাহিনী নেই, বিমানবাহিনী নেই, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা ও রাডার অকেজো। খামেনি এবং তার অধিকাংশ নেতাও মৃত। আর এই সবকিছুই ঘটেছে তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত এবং ইরানের যা কিছু অবশিষ্ট আছে, তাও শেষ করে দেয়া হবে।  বক্তব্যের একটি পৃথক অংশে, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ইরানের ‘ব্যর্থতা’র প্রসঙ্গও পুনরায় টেনে আনেন। লেখেন, ‘ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তারা জেনেশুনেই তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ ও দেশের মধ্যে উদ্বেগ, স্থানচ্যুতি এবং যন্ত্রণা সৃষ্টি হয়েছে।’ ট্রাম্প তেহরানকে দ্রুত এই আন্তর্জাতিক নৌপথ খুলে দেয়ার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইনের বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘন করছে। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক আলোচনা ব্যর্থ, এরপর কী হবে? ব্যর্থ আলোচনা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সাধারণত যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই হরমুজ প্রণালী ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনায় ছিল একটি বড় জটিলতার কারণ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যকর থাকা শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ইরানের ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার হাজি বাবাই-এর বরাত দিয়ে মেহের নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের জন্য হরমুজ প্রণালী একটি ‘রেড লাইন’। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এবং এর টোল ইরানি মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে।’ এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (১১ এপ্রিল) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে দাবি করেছিলেন, প্রণালীটি ‘শিগগিরই খুলে দেয়া হবে’। শান্তি আলোচনায় দুই পক্ষ কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ত্যাগ করার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানি প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ ছাড়ার খবর পাওয়া যায়। ইরানের সাথে কোনো শান্তিচুক্তি না হওয়ায় রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে এয়ারফোর্স টু উড়োজাহাজে করে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সময় আজ রোববার সকাল ৭টা ৮ মিনিটে (জিএমটি ২টা ০৮ মিনিট) ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ উড়োজাহাজে চড়েন। উড়োজাহাজে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর থেকে তিনি দায়িত্বরত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান।  আরও পড়ুন: হরমুজ ইরানের হাতে, টোল অবশ্যই দিতে হবে: ডেপুটি পার্লামেন্ট স্পিকার ইরানের সঙ্গে ম্যারাথন আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলেনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি। আমি মনে করি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। তেহরান ওয়াশিংটনের প্রস্তব প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের পর ইরানি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে। তবে এখনও ২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়েছে। বাঘাই বলেন, ৪০ দিনের চাপিয়ে দেয়া সংঘাতের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা অবিশ্বাস ও সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে হয়েছে। এক বৈঠকেই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব এমন আশা করা স্বাভাবিক ছিল না। কেউই তা আশা করেনি। ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় সেই সংলাপ। এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরাইলও। পরে পাল্টা জবাব দেয়া শুরু করে তেহরান। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি, এনডিটিভি

Go to News Site