Somoy TV
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদনী হাউজিং এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনিসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।রোববার (১২ এপ্রিল) ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ রাকিবুল হাসানের বাবা মো. হোসেন খোকা। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি (৩৫), এনায়েতনগর ইউনিয়ন যুবদলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক সারজিল আহম্মেদ অভি (৩০), আব্দুল হামিদ প্রধান (৫২), মো. আব্দুস সালাম (৪০), আকাশ (২৮) ও সুমন মোল্লা রকেট (৪৩)।মামলার বাদী মো. হোসেন খোকা এজাহারে উল্লেখ করেন, ফতুল্লার চাঁদনী হাউজিং এলাকায় অবস্থিত ‘বেস্ট স্টাইল কম্পোজিট লিমিটেড’ নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট ও ওয়েস্টেজ মালের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ৯ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে ওই কারখানার সামনে লোকজন জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান।এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি, রামদা ও ককটেলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কোপানোর চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে সরকারি রাস্তা কাটায় পোশাক কারখানাকে জরিমানাবাবার ওপর হামলার খবর পেয়ে ছেলে রাকিবুল হাসান (২৩) ঘটনাস্থলে গেলে আসামিরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তাঁর বুকের ডান পাশের কাঁধে বিদ্ধ হয়। এ ছাড়া ওই পথে যাওয়ার সময় ইমরান (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রও গুলিবিদ্ধ হয়। বর্তমানে তাঁরা দুজনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।বাদীপক্ষের দাবি, কারখানা থেকে ঝুট মালামাল বের করতে না পেরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মালিকপক্ষকে ভয় দেখাতে আসামিরা এই তাণ্ডব চালিয়েছে।নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। ঘটনার সময় কারা অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি করেছে, তা নিশ্চিত হয়ে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারেও আমাদের অভিযান চলছে।'বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
Go to News Site