Collector
সুন্দরবন এলাকায় গত ১৮ মাসে ৮১ আগ্নেয়াস্ত্রসহ যা উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড | Collector
সুন্দরবন এলাকায় গত ১৮ মাসে ৮১ আগ্নেয়াস্ত্রসহ যা উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড
Somoy TV

সুন্দরবন এলাকায় গত ১৮ মাসে ৮১ আগ্নেয়াস্ত্রসহ যা উদ্ধার করল কোস্ট গার্ড

সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ১৮ মাসে ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, জাহাঙ্গীর ও আসাবুর ছাড়াও বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর ৬১ জন দস্যুকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এসময়ে অপহৃত ৭৮ জন জেলে ও তিনজন পর্যটককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দস্যুদের আস্তানা পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে। অস্ত্র ছাড়াও ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলাবারুদসহ ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস, ৯০০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ ও বিপুল অবৈধ সামগ্রী জব্দ এবং ২৯ জন হরিণ শিকারিকে আটক করা হয়েছে। একই সাথে প্রায় ১ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা সমমূল্যের অবৈধ জাল ও বিপুল রেণুপোনা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি নতুন কিছু দস্যু বাহিনী পুনরায় সুন্দরবনের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এ সকল বনদস্যুদের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শীল্ড’ পরিচালনা করেছি। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা ও জেলে বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাম্প্রতিক সময়ে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বিভিন্ন সময় সমন্বয় সভা করা হয়েছে যা ফলপ্রসু হয়েছে। আরও পড়ুন: সুন্দরবনে জেলেদের ওপর বনদস্যুদের গুলি, আহত ১ সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বনদস্যুদের সমূলে উৎপাটন করতে বর্তমানে সুন্দরবনে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ শীর্ষক দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মেসবাউল ইসলাম বলেন, আমাদের অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো-প্রথমতো জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বনের উপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি এবং মৌয়ালদের কর্মক্ষেত্রে নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা। এছাড়া সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে লুকিয়ে থাকা দস্যু ও তাদের আস্তানাগুলো চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ও দ্রুতগতিসম্পন্ন বোট ব্যবহার করে সুন্দরবনের নদ-নদীতে নিয়মিত টহল জোরদার করা। তিনি বলেন, সুন্দরবন হলো বাংলাদেশের ফুসফুস এবং অসংখ্য মানুষের জীবিকার উৎস। এই বনের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোস্ট গার্ড আপসহীন। আমরা দস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন' এবং 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড' এর মাধ্যমে বনবাসীদের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য অতন্দ্র প্রহরীর হিসেবে কাজ করছে। আরও পড়ুন: সুন্দরবনে করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক তাই সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় কোস্ট গার্ড সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত সুন্দরবন না হওয়া পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Go to News Site