Collector
বৈশাখের শীতলপাটি বুননে বছরের স্বপ্ন আঁকে তারা | Collector
বৈশাখের শীতলপাটি বুননে বছরের স্বপ্ন আঁকে তারা
Somoy TV

বৈশাখের শীতলপাটি বুননে বছরের স্বপ্ন আঁকে তারা

বৈশাখি মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝালকাঠির শীতলপাটি কারিগররা। এছাড়া চট্টগ্রামের জব্বারের বলি খেলা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন বড় বড় মেলায় বিক্রি হবে জেলার ব্র্যান্ড পণ্য এই শীতলপাটি। বিগত বছরের শঙ্কা কাটিয়ে এবার লাভের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।‘পেয়ারা আর শীতলপাটি এই নিয়ে ঝালকাঠি’-জেলার ট্যাগলাইন হলেও প্রায় সারা বছরই চলে শীতলপাটি তৈরির কাজ। তবে বৈশাখ এলেই এর চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ, ফলে কারিগরদের ব্যস্ততাও বেড়ে যায়। ঝালকাঠির রাজাপুর, নলছিটি ও সদর উপজেলার তিন শতাধিক পরিবার বংশপরম্পরায় শীতলপাটি তৈরির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বৈশাখে চাহিদা বেশি থাকায় এসব গ্রামের ঘরে ঘরে চলছে কারিগরদের নিপুণ হাতের কারুকার্য। শীতলপাটি তৈরির প্রতিটি ধাপেই থাকে শিল্পের সূক্ষ্ম ছোঁয়া, আর ধাপে ধাপে তৈরি হওয়া পাটি যেন জীবনের ক্যানভাসে আঁকা এক শিল্পকর্ম। আরও পড়ুন: বাংলা নববর্ষ ঘিরে রাজধানীর বিপণিবিতানে জমে উঠেছে কেনাকাটা চট্টগ্রামের জব্বারের বলি খেলাসহ সারাদেশের বৈশাখি মেলাগুলোতে বিক্রির জন্য শীতলপাটির চাহিদা ওঠানামার ওপর নির্ভর করে সারা বছরের হিসাব কষেন কারিগররা। বিশেষ করে পাটি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত নারীরা এ হিসাব আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠি গ্রামের পাটি শিল্পী আঁখি রানী বলেন, এই বৈশাখে শীতলপাটির আয় দিয়েই সারা বছরের সংসার চলে। বছরের পুরোটা সময়ই পাটি তৈরির কাজে যুক্ত থাকতে হয়। তবে চৈত্র মাসের শেষ দিকে আড়তদারদের অর্ডার পেলে বোঝা যায় কতটা কাজ হবে। এবার চাহিদা ভালো, মেলা ভালো হলে বছরটাও ভালো যাবে বলে আশা করছি। বৈশাখি মেলা এবং আসন্ন ১২ বৈশাখ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জব্বারের বলি খেলার মেলাকে ঘিরে এখন গ্রামগুলোতে ঘরে ঘরে কর্মচাঞ্চল্য। নারী-পুরুষ সবাই মিলেই দিন-রাত পরিশ্রম করে পাটি বুনছেন। বৈশাখকে কেন্দ্র করেই তাদের বছরের সবচেয়ে বড় আয়ের প্রত্যাশা। কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি শীতলপাটি তৈরির প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও শ্রমসাধ্য। এর মূল কাঁচামাল পাইতরা বা মুর্তা গাছ, যা পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। বাজারে এক পোন (৮০টি) পাইতরার লম্বা ডগা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনতে হয়। একটি পাইতরা থেকে ১২ থেকে ২০টি বেতি তৈরি করা হয়। এরপর ভাতের মাড় ও পানির মিশ্রণে ৭ থেকে ৮ দিন ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে রোদে শুকানো হয়। পরে কিছু বেতি রং করা হয়। রং করা ও রং ছাড়া বেতি দিয়ে শুরু হয় বুননের কাজ। একটি পাটি তৈরি করতে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ দিন। পাটিকর কৃষ্ণ চন্দ্র দাস বলেন, একটি পাটি তৈরি করতে অনেক কষ্ট হয়, কিন্তু বিক্রি করতে হয় সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার টাকায়। এক হাজার টাকার পাটিও রয়েছে। ঝালকাঠির শীতলপাটি এখন বড় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যেও যাচ্ছে। তবে সম্ভাবনার মাঝেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, এই শিল্পে সরকারি কোনো সহায়তা নেই। আর্থিক সংকটে অনেক কারিগর স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে কাজ করেন, ফলে কম দামে পাটি বিক্রি করতে বাধ্য হন। সহজ ঋণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত হলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আরও বিস্তৃত হতে পারে। আরও পড়ুন: পহেলা বৈশাখ ঘিরে দেশে-বিদেশে বাড়ছে মাটির পণ্যের কদর, ব্যস্ততা বাউফলের পালপাড়ায় পাটির পাইকার জুবাল চন্দ্র জানান, চট্টগ্রামের জব্বারের বলি খেলার মেলায় প্রায় দুই কোটি টাকার পাটি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছি। তবে মেলার অব্যবস্থাপনায় বিক্রি নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে। এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরী বলেন, শীতলপাটি বুননের সঙ্গে জড়িতদের সমস্যাগুলো শুনে তা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। ঝালকাঠি শীতলপাটি শিল্প যুব ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক বাবুল দত্ত বলেন, আগের বছরের তুলনায় এবার চাহিদা অনেক বেড়েছে। ঝালকাঠির শীতলপাটি এখন বড় ব্যবসায়ীদের হাত ঘুরে মধ্যপ্রাচ্যেও যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

Go to News Site