Jagonews24
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) আয়নাঘরে গুম করে রাখার পর প্রায় সাত বছর এসিবিহীন কক্ষে ছিলেন বলে জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৬ জুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে আমি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলাম। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে ২১ ফুটের সেই কক্ষে এসি লাগানো হয়। তারা বলতো আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিপক্ষের জেরায় তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে তাকে জেরা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। আইনজীবীর জেরার প্রশ্নে আযমী জানান, চাকরি থেকে বরখাস্ত করার পর সরকারের ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন করেছিলেন তিনি। তবে এ মুহূর্তে রিট নম্বর মনে নেই তার। ওই মামলা ডিভিশন বেঞ্চ থেকে রুল ইস্যু করা হলেও পরে একক বেঞ্চে রুল শুনানি করে রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমার চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন সেনাপ্রধানের ডেপুটি মিলিটারি সেক্রেটারি। বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে অবসর প্রদানের আদেশে কে স্বাক্ষর করেছেন তা মনে নেই। বরখাস্তের আদেশ বাতিলের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কোনো আবেদনও করিনি। আরও পড়ুনঅপরাধীকে গালি দেন, সেনাবাহিনীকে নয়: আমান আযমীব্রিগেডিয়ার আযমী এসি রুমে আয়েশে ছিলেন, দাবি আসামিপক্ষের আইনজীবীর গুম থেকে মুক্তির পর কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন কি না প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ বলে জবাব দেন আযমী। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের শেষের দিকে গুমের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি পেশ করেছিলাম। কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে কার কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই। গুমের জন্য সেনাবাহিনী থেকে ব্রিগেডিয়ার আযমী ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। জবাবে তিনি দাবি করেন, এমন কোনো ক্ষতিপূরণ তিনি পাননি। এসময় গুমের পর আযমীকে রাখা কক্ষের বর্ণনা জানতে চান আসামিপক্ষের আইনজীবী। একই সঙ্গে এসি কক্ষে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। জবাবে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আমাকে যে কক্ষে বন্দি রাখা হয়েছিল তার বর্ণনা আমি কোর্ট অব ইনকোয়ারিতে দিয়েছি। ওই কক্ষের আয়তন ২১-১৭ ফুট। এসি লাগানো হয়েছিল ২০২৩ সালের ৮ জুন। এ বর্ণনা দিতে গিয়ে আযমী বলেন, ২০২৩ সালের ৬ জুন আমি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিলাম। গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে এসি লাগানো হয়। এর আগে প্রায় সাত বছর এসিবিহীন কক্ষে ছিলাম। তারা বলতো আপনাকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। চাকরিজীবনে কয়টি ব্রিগেড কমান্ড পেয়েছেন? আসামির আইনজীবীর এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি দুটি ব্রিগেড কমান্ড পেয়েছি। একটি ছিল ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেড ও রংপুর অঞ্চলে বীর উত্তম শহীদ মাহবুব সেনানিবাসে ১৬ পদাতিক ব্রিগেড। গুমের সময় আটতলা ভবনের ষষ্ঠতলায় ছিলেন বলে জেরায় জানান আযমী। তিনি বলেন, আমি অষ্টম তলার ফ্ল্যাটে থাকলেও ওইদিন ষষ্ঠতলার খালি একটি ফ্ল্যাটে ছিলাম। ভবনটি আমাদের পারিবারিক। ষষ্ঠতলার কক্ষ থেকে গ্রাউন্ড ফ্লোর দেখা যায় না। তবে বারান্দা থেকে নিচের সবকিছু দেখা যায়। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ১৩ জন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন তিনজন। তাদের আজ সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গ্রেফতার আসামিরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা। জেরা শেষ না হওয়ায় প্রথমার্ধের পর বিরতি দেন ট্রাইব্যুনাল। এফএইচ/ইএ
Go to News Site