Somoy TV
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানকে নতুন করে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধের কাছে কোনো ইরানি জাহাজ এলে তা ডুবিয়ে দেয়া হবে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ হয়ে গেছে, তবে তাদের ‘ফাস্ট অ্যাটাক শিপ’ এখনো ডুবানো হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব জাহাজ অবরোধের কাছে এলে মার্কিন নৌবাহিনী সমুদ্রে মাদক পাচারকারী নৌকার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একই কৌশল প্রয়োগ করবে। আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধ শুরু, কী হতে যাচ্ছে ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, সতর্কবার্তা: এই জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের কাছাকাছি আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ধ্বংস করা হবে। সমুদ্রে নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আমরা যে হত্যা পদ্ধতি ব্যবহার করি, ঠিক সেই পদ্ধতিই ব্যবহার করা হবে। এটি দ্রুত এবং নৃশংস। এর আগে গ্রিনিচ মান সময় সোমবার (১৩ এপ্রিল) ২টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ করা ও ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়ার কথা জানায় মার্কিন সামরিক বাহিনী। তাদের দেয়া সেই সময় ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নৌ অবরোধ আরোপ ও তা বজায় রাখতে সামরিক বাহিনী প্রস্তুত আছে। তবে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নির্ধারণ করা হয়নি। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ কার্যকর রাখতে মার্কিন বাহিনী ও সরঞ্জাম যথেষ্ট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে তা বজায় রাখা সম্ভব। আরও পড়ুন: ইরানের বন্দর অবরোধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর বার্তা রাশিয়ার এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) থেকে নাবিকদের কাছে পাঠানো একটি নোট এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগরে অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে এবং এটি পতাকা নির্বিশেষে সকল নৌযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ওই নোট বা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেন্টকম সতর্ক করেছে যে, অনুমতি ছাড়া অবরোধ করা এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে প্রস্থানকারী জাহাজ আটক, পথ পরিবর্তন এবং জব্দ করা হতে পারে। তবে জানা গেছে, এই অবরোধ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘ইরান-বহির্ভূত গন্তব্যে বা সেখান থেকে নিরপেক্ষ যানবাহন চলাচলে’ বাধা সৃষ্টি করবে না বলেও নোটে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন এই বিধিনিষেধকে ‘অবৈধ কাজ’ এবং ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো যুদ্ধজাহাজ বর্তমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও এই পদক্ষেপের প্রতি খুব বেশি সমর্থন নেই বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য এই অবরোধকে সমর্থন করে না। অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যেই, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অবরোধ শুরু করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ক্রেমলিন। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে থাকবে। বিষয়টি যথেষ্ট নিশ্চয়তার সঙ্গেই অনুমান করা যায়। তিনি আরও বলেন, ‘তবে এখনো অনেক বিষয় অস্পষ্ট, তাই এই মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করা থেকে আমি বিরত থাকছি।’ আরও পড়ুন: ইসরাইলের বিরুদ্ধে এবার সামরিক পদক্ষেপের হুমকি এরদোয়ানের ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে বৃহত্তর একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম গ্রহণের বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তাব নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়। পেসকভ বলেন, ‘প্রস্তাব ওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। রাশিয়া এখনো সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত।’ সংঘাত শুরুর পরপরই মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সেনা, জাহাজ ও বিমান চলাচলের অবস্থান ও গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছে। গত মাসে সিএনএন আরও জানায়, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে অর্জিত উন্নত ড্রোন কৌশল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ইরানকেও সহায়তা করছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা, সিএনএন
Go to News Site