Somoy TV
জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে তেল; তা এক ক্লিকেই দেখা যাবে। এই তথ্য ব্যবহার করে অপচয় ও দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে সহজেই পরিকল্পনা করতে পারবে সরকার। এমন একটি সেন্ট্রাল ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করেছেন উদ্যোক্তা ও গবেষক প্রকৌশলী জাকারিয়া মালিক।জ্বালানি সংকটে কয়েক বছর ধরেই ভুগছে দেশের শিল্প-কলকারখানা, যা বদলে দিয়েছে শিল্প উদ্যোক্তাদের হিসাব-নিকাশ। এবার মার্চের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনার চিত্র আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। চালকরা বলছেন, ভোর পাঁচটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, কয়েক ঘণ্টা লাগছে তেল নিতে। কেউ কেউ সাত ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন। সিস্টেম আরও উন্নত না হলে এই ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়। আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে লাইটার জাহাজ অচল, চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস ব্যাহত! এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আমদানি থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিটি ফোঁটা ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের হিসাব সহজে ট্র্যাক করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় জ্বালানি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম তৈরি করেছেন উদ্যোক্তা ও গবেষক প্রকৌশলী জাকারিয়া। সেন্ট্রাল ফুয়েল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের উদ্ভাবক প্রকৌশলী জাকারিয়া মল্লিক বলেন, এলসি খোলা থেকে শুরু করে গ্রাহকের কাছে জ্বালানি পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং পোর্টালে আনা হবে, যার মাধ্যমে প্রতিটি ফোঁটা জ্বালানির ট্র্যাকিং সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থায় যানবাহনের লাইসেন্স নম্বর দিয়ে অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করতে হবে। ফিলিং স্টেশনে গিয়ে চালকের স্মার্টফোন বা পাম্পে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে গাড়িটি কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত হবে। এরপর কত লিটার জ্বালানি নেয়া হলো, তা সঙ্গে সঙ্গেই হালনাগাদ হবে পাম্পসহ দেশের সামগ্রিক জ্বালানি রিজার্ভেও। যানবাহনের ধরন ও জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ অনুযায়ী আলাদা তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। একইভাবে শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক খাত এবং বাসা-বাড়িতে কত লিটার জ্বালানি ব্যবহৃত হলো, কোন পাম্প থেকে নেয়া হলো-সব তথ্যই থাকবে কেন্দ্রীয় এই ব্যবস্থার আওতায়। জাকারিয়া মল্লিক বলেন, যদি শুধু লাইসেন্সধারী যানবাহনগুলোকেই ফুয়েল দেয়া হয়, তাহলে অবৈধ যানবাহনগুলোও ধীরে ধীরে সড়ক থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পথে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাব। এ খাতের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা দূর করতে এমন একটি ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে, যেখানে প্রতিটি ধাপেই থাকবে জবাবদিহিতা এবং নাগরিক পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, এতে পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। একটি ডিপো থেকে যে তেল বের হলো, সেটি কোন গাড়িতে কতটুকু গেছে-সব তথ্যই ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, খুব সহজে এবং কম খরচে এই ধরনের ডিজিটাল বিপণন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এতে প্রতিটি ফোঁটা জ্বালানির হিসাব রাখা যাবে এবং কোনো অপচয় থাকবে না। আরও পড়ুন: জ্বালানি আমদানিতে পর্যাপ্ত ডলার রয়েছে, স্বাভাবিক ক্রয়-বিক্রয়ের আহ্বান বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, প্রযুক্তি এরই মধ্যে বিদ্যমান আছে। খুব অল্প সময় ও খরচে পুরো ব্যবস্থাকে স্বচ্ছভাবে মনিটর করা সম্ভব। কোন গাড়ি কত লিটার তেল নিল, সেই তথ্য সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাপে পাওয়া যাবে। একই গাড়ি যদি আবার অন্য পাম্পে গিয়ে তেল নিতে চায়, তাহলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ট দেবে যে আগে কতটুকু তেল নেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই ডেটা বিশ্লেষণ করে সহজেই বোঝা যাবে কোন পাম্পে কত জ্বালানি লাগে, কত দিনে কতটা খরচ হয়। এতে অনুমান নির্ভরতার বদলে তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে। এদিকে সরকার বলছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে, পাম্প মালিকরাও বলছেন কোনো সংকট নেই। কিন্তু ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই; এই তেল আসলে যাচ্ছে কোথায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপণন কাঠামোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা গেলে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া যাবে না, পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতেও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব হবে না।
Go to News Site