Collector
সাংগ্রাই উৎসব: সাঙ্গু নদীর তীরে বুদ্ধমূর্তি স্নানে হাজারো পুণ্যার্থী | Collector
সাংগ্রাই উৎসব: সাঙ্গু নদীর তীরে বুদ্ধমূর্তি স্নানে হাজারো পুণ্যার্থী
Somoy TV

সাংগ্রাই উৎসব: সাঙ্গু নদীর তীরে বুদ্ধমূর্তি স্নানে হাজারো পুণ্যার্থী

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে উদযাপিত হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রাই’ উৎসব। পুরানো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বুদ্ধমূর্তি স্নান। এই পুণ্যস্নানে অংশ নিতে সাঙ্গু নদীর তীরে হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বান্দরবানের রাজগুরু বিহার থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শতবর্ষী বুদ্ধমূর্তিগুলো সাঙ্গু নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চন্দন জল দিয়ে বুদ্ধমূর্তি স্নানে অংশ নেন হাজারো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, উপোসথ পালনকারীরা তিন দিনের জন্য বিহারে অবস্থান নেন। বুদ্ধমূর্তি স্নানের মাধ্যমে মূলত পুরনো বছরকে বিদায় জানানো হয়। রাজগুরু বিহার থেকে বুদ্ধমূর্তিগুলো মাথায় নিয়ে শোভাযাত্রাটি নদীর তীরে পৌঁছানোর পর সেখানে প্রার্থনা ও ধর্মীয় দেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মূর্তিগুলোকে চন্দন মিশ্রিত জলে স্নান করানো হয়। পুণ্যার্থীরা এই পবিত্র জল বোতলে ভরে বাড়িতে নিয়ে যান। তাদের বিশ্বাস, এই জল পানের মাধ্যমে জীবনের সব গ্লানি ও অকল্যাণ দূর হয়ে যায়। উৎসবের বিষয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী আকাশ মারমা বলেন, ‘ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী বর্ষবিদায় লগ্নে ও সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় মারমা সমাজে শীল গ্রহণ, উপোসথ পালন, প্রবীণ পূজা, বুদ্ধমূর্তি স্নান ও বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।’ আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে মারমাদের মাহা সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন রাজগুরু বিহারের ভিক্ষু নন্দশ্রী জানান, মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।’ উল্লেখ্য, বছরের শুরুতে বুদ্ধমূর্তি স্নান করানোর এই রীতি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরোনো। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবানেও গত কয়েক যুগ ধরে অত্যন্ত ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে বুদ্ধমূর্তি স্নান উৎসব পালিত হয়ে আসছে।

Go to News Site