Somoy TV
৬টি বিয়ে করে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগে এক স্বামীকে প্রকাশ্য দিবালোকে জনাকীর্ণ বাজার থেকে মারধর করে তুলে নিয়ে গেছেন তার ক্ষুব্ধ স্ত্রী ও স্বজনরা। শত শত উৎসুক জনতার সামনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো বাজার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে মোংলা পৌর শহরের বি এল এস রোড মেইন বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম দেলোয়ার (৩৫)। তিনি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বুরবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সুকৌশলে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এ পর্যন্ত একে একে অন্তত ৬টি বিয়ে করেছেন। তার প্রতারণার কৌশল ছিল অনেকটা একই রকম। বিয়ের পর কয়েকদিন শ্বশুরবাড়িতে থেকে বিশ্বাস অর্জন করতেন এবং সুযোগ বুঝে অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যেতেন। দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ থাকায় তার স্ত্রীরা ও তাদের পরিবার তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে দেলোয়ার মোংলা মুদি বাজারে নিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ঠিক তখন তার ছোট স্ত্রী তাকে দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকজনকে খবর দেন। পরে পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন। দেলোয়ারকে দেখা মাত্রই তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়েই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। উত্তেজিত স্বজনরা তাকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে জনসমক্ষেই তাকে মারতে মারতে টেনেহিঁচড়ে বাজার থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান তারা। আরও পড়ুন: মোবাইল ফোনে একাধিক বিয়ে, ‘বর তুমি কার’ স্লোগানে প্রবাসীর বাড়িতে কর্মসূচি দিনের ব্যস্ততম সময়ে এমন দৃশ্য দেখে বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মুহূর্তের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কী ঘটছে তা বুঝতে না পেরে শত শত মানুষ সেখানে ভিড় জমান। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় বাজারের লোকজনের। অনেকেই ঘটনার ভিডিও চিত্র মোবাইলে ধারণ করেন, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ব্যস্ত বাজারে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে একজনকে টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, দেলোয়ার অপরাধী হয়ে থাকলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া উচিত ছিল। দেলোয়ারকে আসলে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
Go to News Site