Somoy TV
বরিশালের চরমোনাই মাহফিলে যাত্রী নিয়ে এসে ডুবে যাওয়ার ১২ দিন পর অভিনব পদ্ধতিতে উদ্ধার করা হয়েছে যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমভি মানিক-৪’। ৩০০টি খালি প্লাস্টিকের ড্রাম, দড়ি আর বাতাসের উচ্চচাপকে কাজে লাগিয়ে কীর্তনখোলা নদীর তলদেশ থেকে লঞ্চটি ভাসিয়ে তোলা হয়।সোমবার (১৩ এপ্রিল) চরমোনাই এলাকার কীর্তনখোলা নদী থেকে লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, লঞ্চটিকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে তলার ফেটে যাওয়া অংশের মেরামত চলছে। একই সঙ্গে ইঞ্জিন রুমের পানি মোটরের মাধ্যমে বের করা হচ্ছে। বর্তমানে লঞ্চটিকে দুটি বার্জের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জের বেসরকারি উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান ‘বরিশাল স্যালভেজ’ লঞ্চটি উদ্ধারের কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. নজরুল ইসলাম জানান, সরাসরি লঞ্চ তোলার পরিবর্তে তারা পুরোনো কিন্তু কার্যকর একটি পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। উদ্ধার প্রক্রিয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অন্তত ৩০০টি খালি ড্রাম পানিতে ভরিয়ে লঞ্চের ভেতরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। পাইপের মাধ্যমে ড্রামের ভেতরে বাতাস ঢোকানো হলে ভেতরের পানি বেরিয়ে যায়। এতে ড্রামগুলো ধীরে ধীরে ভাসমান শক্তি তৈরি করে এবং সেই শক্তিতেই লঞ্চটি ওপরে উঠে আসে।’ আরও পড়ুন: ট্রলার থেকে লঞ্চে উঠতে গিয়ে দুই পা থেঁতলে গেল যাত্রীর লঞ্চের মালিক ফজলুল হক জানান, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত খরচে তিনি লঞ্চটি উদ্ধার করেছেন। এটি উদ্ধারে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘অনেকদিন পানিতে ডুবে থাকায় ভেতরের পলি ও মাটি জমে লঞ্চের অনেক কিছু নষ্ট হয়েছে। পানি জমে থাকায় ইঞ্জিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলাচলের উপযোগী করতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হবে। উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হলে দুই-তিন দিনের মতো সময় লাগবে ঢাকায় নিয়ে যেতে।’ গত বুধবার (১ এপ্রিল) চরমোনাইয়ের বার্ষিক মাহফিলে অংশ নেয়া যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে নদীর তীরেই নোঙর করা ছিল লঞ্চটি। ভাটার সময় হঠাৎ পানি কমে গেলে লঞ্চটির পেছনের অংশ দেবে যায়। এরপর ধীরে ধীরে সেটি তলিয়ে যায় নদীর প্রায় ৫৫ ফুট গভীরে। তবে সে সময় লঞ্চটি খালি থাকায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
Go to News Site