Somoy TV
আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবে গেছে। ট্রলারটিতে ২৫০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসী ছিল বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনায় তাদের বেশিরভাগেরই প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের গণমাধ্যম বিষয়ক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশ পতাকাবাহী জাহাজ এমটি মেঘনা প্রাইড গত ৯ এপ্রিল বিকেলে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ৯ জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও একজন নারী। এই কর্মকর্তা আরও জানান, পরে মধ্যরাতের দিকে তাদেরকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ মনসুর আলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার পাওয়ার পর বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা মানব পাচার এবং সেই প্রাণঘাতী যাত্রার ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন। উদ্ধারপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, গত ২ এপ্রিল কুতুপালং বাজার থেকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে প্রথমে টেকনাফের কাচ্ছোপিয়া ইউনিয়নের রাজারছড়া এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে আরও ২০ থেকে ২৫ জনের সঙ্গে অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকে রাখা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগীরা পালানোর চেষ্টা করলেই তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো এবং পাচার হওয়া ব্যক্তিদের আটকে রাখার জন্য এলাকার একাধিক বাড়ি ব্যবহার করা হতো। আরও পড়ুন: সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাসহ ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার তার দেয়া তথ্য মতে, গত ৪ এপ্রিল রাতে তাদেরকে রাজারছড়ার কাছে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন উপকূলে নিয়ে গিয়ে ছোট মাছ ধরার নৌকায় তোলা হয়। এক পর্যায়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের একটি টহল দল পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা কাছের ঝোপে লুকিয়ে পড়তে বাধ্য হন। তিনি বলেন, ‘পরে আমাদেরকে ধাপে ধাপে মিয়ানমার জলসীমার কাছে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের নিকটবর্তী একটি বড় মাছ ধরার ট্রলারে স্থানান্তর করা হয়।’ রফিকুলের ভাষ্যমতে, জাহাজটিতে আরও যাত্রী তোলা হলে মোট যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৮০ জনে, যাদের মধ্যে ছিলেন ১৩ জন নাবিক ও পাচারকারী, ২১ জন রোহিঙ্গা নারী এবং চারজন শিশু। যাত্রীদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন ছিলেন রোহিঙ্গা এবং বাকিরা বাংলাদেশি। ৪ এপ্রিল মিয়ানমারের শামিলা (সেন্ট মার্টিন দ্বীপের কাছে) জলসীমা ছাড়ার পর ট্রলারটি ৮ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে পৌঁছায়। অভিযোগ রয়েছে, উত্তাল সমুদ্রের কারণে পাচারকারীরা যাত্রীদের মাছ ও জাল রাখার জন্য তৈরি চারটি সংকীর্ণ স্টোরেজ কম্পার্টমেন্টে জোর করে ঢুকিয়ে দেয়। রফিকুল দাবি করেন, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ২৫ থেকে ৩০ জন মারা যান। এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং বাংলাদেশে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলেছে যে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের অভাবের ভয়াবহ পরিণতিই ফুটে উঠেছে। আরও পড়ুন: সাগরপথে রঙিন স্বপ্ন, বাস্তবে মুক্তিপণের শিকলে বন্দি রোহিঙ্গা তরুণরা বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা এবং বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়কে সমর্থন করার জন্য সংহতি বাড়াতে ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে জরুরিভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।’ ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দমনপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে এবং তারা কক্সবাজারের জনাকীর্ণ শিবিরে বসবাস করছে। এরপর থেকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরোধিতার কারণে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন ঘটেনি, যা বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে গভীরভাবে হতাশ করেছে। এটি তাদের শরণার্থী জীবনের অবসান ঘটাতে বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় যেতেও বাধ্য করেছে।
Go to News Site