Collector
‘পীর’ হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে-সক্রিয় ফেসবুকে, গ্রেফতার নেই | Collector
‘পীর’ হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে-সক্রিয় ফেসবুকে, গ্রেফতার নেই
Somoy TV

‘পীর’ হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে-সক্রিয় ফেসবুকে, গ্রেফতার নেই

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিতি পাওয়া আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের একদিন পার হলেও আসা‌মি গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ভক্ত ও এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানান, মামলার এজাহারভুক্ত কয়েকজন অভিযুক্ত প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় রয়েছেন। এজাহারে ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে উল্লেখ থাকা জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ খাজা আহম্মেদ মঙ্গলবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে ১২ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। এজাহারের দ্বিতীয় আসামি খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদকে মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজে হোসেনাবাদ বাজারের একটি মসজিদে ইমামতি করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় মুসল্লিরা জানিয়েছেন। তবে এশার নামাজের পর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। তৃতীয় আসামি রাজিব মিস্ত্রি ঘটনার দিন শনিবার বিকেল থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। একইভাবে ইসলামপুর পূর্বপাড়ার আরেক অভিযুক্ত শিহাবেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।গত সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এর আগে পরিবার মামলা না করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।মামলার বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে যোগাযোগ করা হলে ফজলুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কোনো চাপের মধ্যে আছেন কিনা জানতে চাইলে এ বিষয়েও কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন।মামলায় এজাহারে দেখা যায়,  চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নিহতের অপর দুই ভাই গোলাম রহমান ও হাবিবুর রহমান।আরও পড়ুন: কুষ্টিয়ায় দরবার শরীফের প্রধানকে হত্যা, ভাঙচুর-আগুনএজাহারভুক্ত চার আসামি হলেন—ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কালাম দফাদারের ছেলে ও সাবেক জেলা শিবির সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদ (৩৮), খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান (৩৫), পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি (৪৫) এবং ইসলামপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. শিহাব।এদিকে মঙ্গলবার রাতে উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেন, এ হত্যাকাণ্ড কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয় এবং তাদের কোনো নেতাকর্মী এতে জড়িত নয়। তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংগঠনটিকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রশিবির বা জামায়াতের কর্মীদের জড়িয়ে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমরা ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছি। বুধবার বিকেলে তারাগুনিয়া বা ফিলিপনগরে কর্মসূচি পালন করা হবে।’মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পুলিশ কাজ করছে। উল্লেখ্য,  ১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুরোনো একটি ভিডিও সামনে এনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ‘পীর’ শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় তার দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর ওই গ্রামের মৃত জেছের আলীর ছেলে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১৮ মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রামের পাকা সড়কে শতাধিক মানুষ স্লোগান দিয়ে শামীমের দরবারের দিকে যান। মিছিলে থাকা লোকজনের একটি অংশ তাঁর দরবারের একতলা দুটি পাকা ভবন ও একটি টিনশেড ঘরে ঢুকে পড়ে। তাঁরা ভবনের ছাদসহ ঘরগুলোতে ভাঙচুর চালান ও আগুন ধরিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় ওই দরবারের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ থেকে সাতজন আহত হয়েছেন। অন্যরা দৌড়ে চলে যান। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নেভান।

Go to News Site