Somoy TV
ইসলামাবাদে প্রথম দফায় আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো ‘বার্তা আদান-প্রদান’ অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।নিয়মিত বার্তায় ইরানের বর্তমান অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। খবর বিবিসি’র। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৫ এপ্রিল) পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দল ইরানে আসতে পারে বলেও জানিয়েছে তেহরান। তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, এক্ষেত্রে তেহরানকে তার প্রয়োজনে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে দিতে হবে। আরও পড়ুন: এবার লোহিতসহ ৩ সাগর অবরোধের হুঁশিয়ারি ইরানের তবে পরমাণু সমৃদ্ধকরণের ‘ধরন ও মাত্রা’ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। এদিকে, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্র দু’টি নতুন শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা দুই দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে। তার দাবি, ওয়াশিংটনকে ‘সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিরাই’ ডেকেছেন এবং তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণ ও অবাধে’ পুনরায় খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘ইসরাইল হায়োম’। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘পারস্পরিকতার অবস্থানে’ অটল রয়েছে। অর্থাৎ, ইরান যদি হরমুজ দিয়ে জাহাজ ও ট্যাংকার চলাচলে বাধা দেয়, তবে তাদের নিজেদের জাহাজ এবং ট্যাংকারগুলোকেও এর মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেয়া হবে না। ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি শর্ত হলো, যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদলকে অবশ্যই ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র কাছ থেকে পূর্ণ কর্তৃত্ব পেতে হবে। ওয়াশিংটন চায়, ইসলামাবাদে হওয়া যেকোনো সমঝোতায় সরকারের সব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্মতি থাকুক। প্রথম শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার কয়েকদিন পর, উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ নিরসনের আলোচনা পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল এই সপ্তাহের শেষের দিকে পাকিস্তানে ফিরতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই শর্তের বিষয়টি সামনে এলো। ইরানি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। আরও পড়ুন: ‘চীন খুব খুশি’, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের বার্তা আলোচনায় যুক্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধিদলগুলোকে আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ইসলামাবাদে ফিরে আসার একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটন ও তেহরানে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি, তবে উভয় দেশ এই সপ্তাহের শেষের দিকেই ফিরতে পারে। ইসলামাবাদে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বলেন, পরবর্তী দফার আলোচনা এই সপ্তাহের শেষ বা আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে হতে পারে। তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। এর আগে, ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, ‘কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি, প্রতিনিধিদলগুলো শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত দিনগুলো ফাঁকা রাখছে।’ পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইসলামাবাদ ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে, তারা দ্বিতীয় দফার আলোচনায় আগ্রহী।
Go to News Site