Somoy TV
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় দেশ থেকে বাতিল হয়েছে হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজার হাজার যাত্রী। প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আয়েও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রয়োজন হবে দীর্ঘ সময়।যুদ্ধের প্রভাব যে কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে গোটা বিশ্ব। বেশিরভাগ দেশের মাথাব্যথার বড় কারণ এখন মধ্যপ্রাচ্য সংকট। চলমান অস্থিরতায় জ্বালানি খাত ও পণ্য পরিবহন অনিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যবসা পরিচালনায় কোণঠাসা হয়েছে শতশত এয়ারলাইন্স। হাজার হাজার ফ্লাইট বন্ধের কারণে ভ্রমণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে যাত্রীদের, আর উড়োজাহাজ বসিয়ে রাখায় উঠছে না পরিচালন ব্যয়। চাহিদা-সরবরাহের ঘাটতিতে দেখা দিয়েছে টিকিট বিড়ম্বনা। বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহারকারী প্রায় সব এয়ারলাইন্সই যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাগুলো। এদিকে, চল্লিশ দিন পর মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে কয়েকদিনের বিরতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানে। সংকট কিছুটা কাটাতে তোড়জোড় বেড়েছে সব খাতেই। আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাক উৎপাদন কমেছে ৩০ শতাংশ! তবে যুদ্ধবিরতি হলেও এভিয়েশন খাত স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগবে; এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মফিজুর রহমান বলেন, ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও খরচ বন্ধ হয় না। যেকোনো সংকটে প্রথম ধাক্কাটা এভিয়েশন খাতেই বেশি লাগে। বর্তমান সংকটে অনেক এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে, যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশ থেকে দেশি-বিদেশি বিমান সংস্থার আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ১১০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সরকারের সহায়তার পাশাপাশি নিজস্ব পলিসিতে লোকসান কাটিয়ে উঠার কথা জানিয়েছেন দেশীয় উদ্যোক্তারা। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, চার্জ এবং বিভিন্ন ধরনের ফি যদি কিছুটা কমানো হয়, তাহলে এ খাতের জন্য সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে যদি জেট ফুয়েলের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে এনে পুনর্নির্ধারণ করা হয়, তাহলে এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার কিছুটা সুযোগ থাকবে। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, এখনো যদি এই যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হয়, তাহলেও ফ্লাইটের চলাচলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় লাগবে।
Go to News Site