Jagonews24
যশোরের শার্শার ডিহি ইউনিয়নে একটি পুরনো ও জরাজীর্ণ সেতু বালুবাহী ট্রাকের ভারে ধসে পড়েছে। এতে ওই অঞ্চলের সঙ্গে কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে রঘুনাথপুর-পাকশিয়া সড়কের রঘুনাথপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটি ভেঙে পড়ায় রঘুনাথপুর, পাকশিয়া, টেংরালী, ভেউড়দাড়ি, পন্ডিতপুর, খলিশাখালী ও সাড়াতলাসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে হাজার হাজার মানুষ এখন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিজটি প্রায় ৮০ দশকে নির্মিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। বুধবার বিকেলে বালুবোঝাই একটি ট্রাক সেতু পার হওয়ার সময় মাঝখান থেকে ধসে পড়ে। তবে ট্রাকটির সামনের অংশ সেতু অতিক্রম করে সংযোগ সড়কে উঠে পড়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এছাড়া সেতু ধসে পড়ায় এ সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি পুনর্নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল জব্বার বলেন, এই সেতুটি অনেক দিন ধরেই নড়বড়ে ছিল। এখন এটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। বিশেষ করে জরুরি কোনো রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার মতো কোনো রাস্তা আর অবশিষ্ট নেই। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এদিকে সামনে বোরো মৌসুম হওয়ায় কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। রঘুনাথপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, আর কয়েকদিন পরেই বোরো ধান ঘরে তুলবো। সেতুটি এই সময়ে ভেঙে যাওয়ায় ক্ষেতের ফসল ঘরে নেওয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত বিকল্প বা নতুন সেতু না হলে কৃষকের লোকসানের শেষ থাকবে না। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়ে স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলে, আমাদের স্কুলে যাওয়ার প্রধান পথ এটি। এখন মাইলের পর মাইল পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল্লাহ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে সেতুটির অবস্থা পরিদর্শন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত নতুন ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মো. জামাল হোসেন/এনএইচআর/এএসএম
Go to News Site