Collector
মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ | Collector
মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ
Somoy TV

মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনতে বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি-এর উদ্ভাবিত নতুন এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার ‘ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম’ বা ‘তুরাপ’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। এই ডিজিটাল পোর্টালটির মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কর্মী খুঁজে পাবেন, যা অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে বলে আশা করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী আর রামানান এই সিস্টেমটি গ্রহণে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় বেস্টিনেট ১২ বছরের একটি লাভজনক চুক্তি পেতে পারে। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রতিটি বিদেশি কর্মীর আবেদনের জন্য কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ১ হাজার মার্কিন ডলার এবং কর্মীর এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ ফি নেয়ার সুযোগ থাকবে। বেস্টিনেটের কর্ণধার বাংলাদেশি বংশদ্ভুত আমিনুল ইসলাম এই সিস্টেমটিকে অত্যন্ত যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার দাবি, এই ‘সরাসরি নিয়োগ’ পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে এটি বিশ্বজুড়ে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তবে এই নতুন সিস্টেম এবং বেস্টিনেটকে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান নিয়ে মালয়েশিয়ার বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক মানবসম্পদ মন্ত্রী স্টিভেন সিম এই প্রস্তাব নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, লাইসেন্সধারী এজেন্টদের পুরোপুরি বাদ দিলে বড় কোম্পানিগুলোর জন্য সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠতে পারে, যা প্রকারান্তরে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অবৈধ পথে ঠেলে দেয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।  আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বেস্টিনেটের প্রধান আমিনুল ইসলাম। তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নিয়ে বর্তমানে মালয়েশিয়ার পুলিশ এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। গত বছর বাংলাদেশ পুলিশ তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধও জানিয়েছিল। এ ধরনের আইনি জটিলতা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী আর রামানান জানিয়েছেন, বেস্টিনেট দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সরকারের সঙ্গে কাজ করছে এবং তাদের সিস্টেমটি বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি এই প্রযুক্তির স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়েছেন। বর্তমানে ‘তুরাপ’ প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের শ্রম উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠকে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন নিয়োগ পদ্ধতির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর ফলে ২০২৩ সাল থেকে বন্ধ থাকা বাংলাদেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং কর্মীর পরিবর্তে নিয়োগকর্তারাই সম্পূর্ণ খরচ বহন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Go to News Site