Somoy TV
চট্টগ্রামে বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধর করার পর একটি নির্মাণাধীন ভবনের আট তলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম আশফাক কবির সাজিদ (১৭)।রোববার (১৩ এপ্রিল) রাতে চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিকের একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশফাক নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। এই ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ ভবনটির নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেন। সেখানে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ একদল তরুণ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আশফাককে জোর করে নিয়ে যান। আরও পড়ুন: হাসনাতকে ঘিরে ধরে জুলাইযোদ্ধার প্রশ্ন, আপনি আ.লীগের দোসরের বাসায় কেন? একপর্যায়ে ওই তরুণদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক কৌশলে কাছের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেন এবং দৌড়ে আট তলায় উঠে যান। কিন্তু হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে হামলাকারীরা ওপরতলায় উঠে আশফাককে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে আট তলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আশফাককে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। হত্যার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ নিহত আশফাকের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কেন তাকে হত্যা করা হলো, সেটি দ্রুত তদন্ত করে বের করতে হবে। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
Go to News Site