Somoy TV
চুয়াডাঙ্গায় হপার পোকার আক্রমণ ও বৈরী আবহাওয়ায় ব্যাপক হারে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। বেশিরভাগ বাগানেই গাছের নিচে বিছিয়ে আছে ঝরা আম, আর ডালে ডালে আমের বদলে শোভা পাচ্ছে কেবল শূন্য বোঁটা। কীটনাশক প্রয়োগ করেও সুফল না পাওয়ায় লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।চলতি মৌসুমে জেলার চার উপজেলার প্রায় সাড়ে ৫০০ আম বাগানের চিত্র এখন এমনই। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুরুতে গাছে গাছে প্রচুর মুকুল এলেও, এখন সেই তুলনায় আম টিকছে খুবই কম। এ অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও কম ফলন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণ চুয়াডাঙ্গার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এখানকার সুস্বাদু ও মিষ্টি আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। বাগান মালিকরা ডিসেম্বর থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেন। ফেব্রুয়ারির শেষে বাগানে প্রচুর মুকুল আসে এবং তা থেকে গুটি ধরতে শুরু করে। কিন্তু গুটি আসার পরপরই বাগানগুলোতে হপার পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। পোকাগুলো আমের গুটির নিচের অংশে ছিদ্র করে, যার ফলে তা বোঁটা থেকে খসে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কীটনাশক ছিটিয়েও পোকা দমন করা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোরে অসময়ে গরমের মধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি কুয়াশা পড়ায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া চলমান তীব্র তাপদাহের কারণেও টিকছে না আমের অবশিষ্ট গুটি। আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় অবৈধভাবে তেল মজুতের দায়ে দুজনের জরিমানা হপার পোকার আক্রমণ ও বৈরী আবহাওয়ায় গাছের নিচে এভাবেই ঝরে পড়ে আছে অসংখ্য আমের গুটি। ছবি: সময় সংবাদ দিশেহারা বাগান মালিকরা এমন পরিস্থিতিতে হতাশায় দিন পার করছেন বাগান সংশ্লিষ্টরা। আম বাগান মালিক হাসান বলেন, ‘আম বাগান নিয়ে এ বছর বেশ আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু গুটি বড় হওয়ার পর কুয়াশা ও গরমে তা পুড়ে ঝরে পড়ছে। বাগানের প্রায় ৮০ ভাগ আমের গুটি এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। লিজ নেয়া বাগানের টাকা আগেই পরিশোধ করতে হয়েছে, অথচ এখন গাছে কেবল বোঁটা ছাড়া আর কিছু নেই।’ চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার বলেন, ‘এ বছর বাগানে যে পরিমাণ মুকুল এসেছিল, তা বলে বোঝানো যাবে না। আমরা ভেবেছিলাম অনেক লাভবান হব। কিন্তু হঠাৎ গরমে আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন হওয়া এবং হপার পোকার আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সব গুটি ঝরে যাচ্ছে। কীটনাশক স্প্রে করেও পোকা দমন করা সম্ভব হয়নি। চাষিরা ধার-দেনা ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাগান লিজ নিয়েছিলেন। এখন সবার মাথায় হাত। তবে অবশিষ্ট আমগুলো টিকিয়ে রাখতে আমরা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছি।’ আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গার একটি আম বাগানের বর্তমান চিত্র, যেখানে আমের গুটি ঝরে যাওয়ায় গাছে এখন আমের দেখা মেলাই ভার। ছবি: সময় সংবাদ কৃষি বিভাগের পরামর্শ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এবার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১২২ কোটি টাকা। জেলার বাগানগুলোতে আম্রপালি, হিমসাগর, বোম্বাই, ল্যাংড়া, বারি-৪, কাটিমনসহ বিভিন্ন জাতের গাছ রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্ধেক টাকার আমও বিক্রি হবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদেরও চড়া দামে আম কিনে খেতে হবে। সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘আম বাগানে হপার পোকার আক্রমণ রয়েছে। বাগান ও গাছের গোড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিয়মিত বাগানে সেচ দিতে হবে। নিয়মিত বালাইনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলে পোকা দমন সম্ভব হবে। তবে হরমোন জাতীয় স্প্রে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্যবহার করলে আমের ক্ষতি হতে পারে, তাই এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
Go to News Site