Jagonews24
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মাইক হাতে মঞ্চে দাঁড়ালেন তামিম ইকবাল। কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নিয়েছেন। এবারই প্রথম সভাপতি হিসেবে এমন অনুষ্ঠানে তিনি মঞ্চে। শুরু করলেন এটা খুব বড় কিছু না বলে, কিন্তু এরপর বলে গেলেন টানা ৭ মিনিটের বেশি সময় ধরে। তখন সামনে হালের মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাস থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুরুর দিকের অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, শফিকুল হক হীরা, রকিবুল হাসানরা। সবাই যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনে গেলেন পুরোটা সময়। তামিম একে একে বলে গেলেন সভাপতি হিসেবে ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়কদের জন্য কি কি করতে চান। বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ২০ জন অধিনায়কের হাতে ক্যাপ্টেন্স কার্ড তুলে দেওয়া হয়। একে একে কার্ড বুঝে নেন রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন, মিনহাজুল আবেদীন, আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ, হাবিবুল বাশার, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, লিটন দাস, নুরুল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন, নাজমুল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয় দলকে অন্তত এক ম্যাচে হলেও নেতৃত্ব দিয়েছেন ২৭ জন। এর মধ্যে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের অধিনায়ক শামীম কবির মারা গেছেন। এর মধ্যে বেঁচে আছেন তবে উপস্থিত হননি ৬জন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান, সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা ছিলেন না অনুষ্ঠানে। গত ৭ এপ্রিল ভেঙে দেওয়া আগের বোর্ডের তিন অধিনায়ক আমিনুল, ফারুক আহমেদ ও খালেদ মাসুদ পাইলট ও আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেও আসেননি। নারী অধিনায়কদের মধ্যে অবশ্য ছিলেন শুধু রুমানা আহমেদ। নারী ক্রিকেটে সবমিলিয়ে অধিনায়কত্ব করেছেন ৬ জন। তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা ও ফাহিমা খাতুনরা ছিলেন না ক্যাপ্টেন্স কার্ড বিতরণের এই অনুষ্ঠানে। মঞ্চে মাইক হাতে তামিম যখন দাঁড়ালেন, শুরু করলেন অধিনায়কদের বাংলাদেশ ক্রিকেটে অবদানের তুলনায় এটা তেমন কিছু নয়। তামিম বলেন, ‘এই ক্যাপ্টেনস কার্ড খুব বড় কিছু না। আপনারা ক্রিকেটে যে অবদান রেখেছেন তার তুলনায় এটা বড় কিছু না। কিন্তু এটা একটা শুরু। আর কেন শুরু? আমি নিশ্চিত এখানে যারা আছেন ক্রিকেটার, ক্যাপ্টেন অনেকের মধ্যেই সবসময় একটা অনিশ্চয়তা কাজ করতো। যদি মাঠে যাই, যদি আমাকে না চিনে, যদি আমাকে থামায়, তখন আমার সম্মান থাকবে কি থাকবে না। আমার নিজেরও কখনো কখনো এমনটা হয়েছে। আমি নিশ্চিত এখানে অনেকেরই হয়েছে। যাদের কারণে এই ক্রিকেট দাঁড়িয়ে আছে, তাদের এমনটা ভাবতে হওয়াটাই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।’ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ককে টিকিটের জন্য ফোন করতে হবে এমন পরিস্থিতি তিনি আর দেখতে চান না বলেও জানান তামিম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দলের ক্যাপ্টেন একটা বিসিবিতে ফোন করবে, আমাকে একটা টিকিট দাও এটা অন্তত আমি যতদিন আছি, হতে পারে না। আমাদের ক্যাপ্টেন টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকবে এটাও হতে পারে না। যাদের কারণে আজকে এত কিছু, আমরা যতদিন আছি এটা হতে দেব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকে এই কার্ডটা আপনাদের আজীবনের পরিচয়। এই কার্ড দিয়ে বাংলাদেশের যত খেলা হবে, আইসিসি ইভেন্ট, এসিসি ইভেন্ট, হোম সিরিজ, বিপিএল কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেট সব জায়গায় এটা আপনাদের এন্ট্রি পাস হিসেবে কাজ করবে। আমি কোনোদিন দেখতে চাই না আমাদের ক্যাপ্টেন টিকিট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে বা বিসিবিকে ফোন করছে—আমার টিকিট কোথায়।’ এসকেডি/আইএন
Go to News Site