Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। জ্বালানিসংকটে বাড়ছে লোডশেডিং - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানিসংকটে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। তাতে বাড়ছে লোডশেডিং। রাজধানীতে এখনো তা তীব্র না হলেও গ্রামাঞ্চলে দিনে লোডশেডিং হচ্ছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। আকস্মিক অস্বাভাবিক লোডশেডিং হওয়ায় গরমের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। দিনে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাতে লোডশেডিং বাড়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল সমস্যার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।অনলাইনে জ্বালানি তেল বিক্রি, মজুত চক্র সক্রিয় - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিরতা থামছেই না। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তেল পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা হলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। কেউ চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছে না আবার কেউ কেউ জ্বালানি মজুত করছে ভবিষ্যৎ শঙ্কা থেকে। এ ছাড়া বিভিন্ন মজুত চক্রও গড়ে উঠেছে যারা তেল মজুত করে বিক্রি করছে উচ্চ দামে।সম্প্রতি অনলাইনেও এই চক্র তৎপর হয়েছে। মানবজমিন এমন একাধিক চক্রের তথ্য পেয়েছে যারা অনলাইনে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচারণা চালাচ্ছে। দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা লিটারে তেল বিক্রির প্রচারণা চালানো হচ্ছে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে। পাম্পে যেখানে তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সেখানে কীভাবে খোলা বাজারে তেল বিক্রির ব্যবসা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব - দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাসাবাড়িতে বিদ্যুতের দাম ব্যবহারভেদে ৭ দশমিক ৮ থেকে ২০ দশমিক ১১ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গ্রাহকের পাশপাশি পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তিনটি বিকল্প প্রস্তাবও তৈরি করা হয়েছে। যাতে পাঁচ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি হ্রাস পায়। তবে লাইফলাইন তথা প্রান্তিক গ্রাহক পর্যায়ে কোনো দাম বাড়বে না। বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বাড়তে থাকা চাপ সামাল দিতে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রস্তাব তৈরি করেছে। একই লক্ষ্যে গত ৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে উচ্চ পর্যায়ের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দামের পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের পর সুপারিশ করবে। হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক মাস থাকতে পারে - দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান খবর এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) বলছে, দেশের ৬১টি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৩ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ধারণা, হামের প্রাদুর্ভাব আরও এক থেকে দেড় মাস স্থায়ী হতে পারে। তারা বলেছে, এরই মধ্যে বেশি সংক্রমণ এমন এলাকাগুলোয় (হটস্পট) টিকাদান চলছে। দেশব্যাপী টিকাদান শুরু হবে তিন দিন পর, ২০ এপ্রিল। এর পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের বিচ্ছিন্ন রেখে (আইসোলেশন) চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করছেন, টিকাদান, আইসোলেশন ও মানুষের সতর্কতার কারণে হামের সংক্রমণ কমে আসতে পারে।হামের সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামের প্রাদুর্ভাব চলছে দেশজুড়ে। ইতোমধ্যেই হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২০৬ শিশু। হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৬৩৩ জন। প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগী, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। এর মধ্যেই প্রকোপ বাড়ছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ভাইরাসেরও। ফলে সন্তানদের নিয়ে নানামুখী শঙ্কায় অভিভাবকরা। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামীকাল শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। হাম ও ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে আশ্বস্ত করা হলেও কার্যত সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। আক্রান্তরা উপযুক্ত সেবা পাচ্ছে না। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর কাঠামো ভঙ্গুর হওয়ায় সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মিলছে না। এ অবস্থায় বিভাগীয় শহর ও রাজধানীমুখী হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। তবে স্বল্প আয়ের মানুষরা সেই সুযোগ নিতে পারছেন না। তাদের ভরসা কেবল উপজেলা ও জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই। যদিও সেখানে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না।বিষাক্ত আবর্জনায় ঢাকার লেকগুলো মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধুনিক শহরে লেক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সৌন্দর্যবর্ধনে ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঢাকায় চিত্রটি ভিন্ন। এ রাজধানী শহরে বেশ কয়েকটি বড় লেক থাকলেও সেগুলো এখন ময়লার ভাগাড়; দূষণে বিপর্যস্ত, মশা-মাছির প্রজননস্থল আর দুর্গন্ধের উৎস। ব্যস্ত নগরজীবনে নাগরিকদের স্বস্তির আশ্রয় হয়ে ওঠার পরিবর্তে ঢাকার লেকগুলো বরং এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে, তৈরি করছে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি। বিষাক্ত আবর্জনা, দূষণ, দখল আর বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে ঢাকার লেকগুলো ক্রমেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে।
Go to News Site