Collector
ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, স্থবির জনজীবন | Collector
ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, স্থবির জনজীবন
Jagonews24

ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং, স্থবির জনজীবন

হঠাৎ করেই তীব্র লোডশেডিংয়ের বিপর্যস্ত সিলেট। চাহিদার তুলনায় গড়ে ৩৫ শতাংশ বিদ্যুতের ঘাটতি প্রায় একঘণ্টা পর পর লোডশেডিং হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। শহর থেকে গ্রামীণ পর্যায়েও একই অবস্থা। এছাড়া ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিনভর এই দুর্ভোগে স্থবির জীবনযাত্রা। এর আগে বুধবার রাত থেকেই শুরু হয় লোডশেডিং। বিভিন্ন এলাকায় রাতভর বিদ্যুৎ না থাকার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লোডশেডিং আরও প্রকট আকার ধারণ করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তথ্যমতে, সিলেটে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৪৭৭ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পিডিবির গ্রাহকদের চাহিদা রয়েছে ১৭০ মেগাওয়াট ও পল্লী বিদ্যুতের ৩০৭ মেগাওয়াট। সে তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে পিডিবিকে সরবরাহ প্রায় ১৩০ মেগাওয়াট ও পল্লী বিদ্যুতকে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৭ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিডিবিতে ঘাটতি রয়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং পল্লী বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে ৪৯ শতাংশ। দুই প্রতিষ্ঠানের গড়ে ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিলেটে তিনটি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। যার কারণে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এদিকে হঠাৎ করে ঘনঘন লোডশেডিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরাও। তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনার কারণে ব্যবসা আগেই সীমিত হয়ে গেছে। তার ওপর দিনভর বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। এতে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে। সিলেটের জিন্দাবাজার এলাকার লতিফ সেন্টারের ব্যবসায়ী আফজল হোসেন বলেন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। একদিকে সন্ধ্যার ৭টার ভেতরে দোকানপাট লাগানো নির্দেশনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি ক্রেতারাও মার্কেটে আসছেন না। হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, আঘঘণ্টা পরপর বিদ্যুবিভ্রাট হচ্ছে। কখন কখন এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ আসে না। বাসা-বাড়িতে শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটাতে হচ্ছে। সিলেট নগরীর চেয়ে গ্রামীণ পর্যায়ে অবস্থা আরও ভয়াবহ। কোনো কোনো এলাকায় বুধবার রাত থেকে বিদ্যুৎ নেই। বৃহস্পতিবার সকালে একবার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও আবার বিভ্রাট দেখা দেয়। জকিগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক আহমেদ বলেন, আমাদের এলাকায় গতকাল থেকে মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ আসে। বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় কাটে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, হঠাৎ করে চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও উৎপাদন বাড়েনি। তারমধ্যে তিনটি উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ। ফলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যার কারণে বারবারই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদিনের চাহিদা রয়েছে ১৭০ মেগাওয়াট। তারমধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন না বাড়লে এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী পরেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, সিলেটে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের প্রতিদিন ৩০৭ মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬৭ মেগাওয়াট। গড়ে ৪৯ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। এতো বড় অংশ ঘাটতির কারণে ঘনঘন লোডশেডিং হচ্ছে। আহমেদ জামিল/এনএইচআর/এএসএম

Go to News Site