Somoy TV
গত ১৫ এপ্রিল মারা গেছেন না ফেরার দেশে চলে গেছেন ছোট পর্দার একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বন্যা মির্জার বাবা। তিনি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারী। তার দিন দুয়েক পরে, শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে বাবাকে নিয়ে একটি দীর্ঘ ও আবেগঘন কথা লিখেছেন এই অভিনেত্রী। যেখানে তার বাবার সরল জীবনযাপন, সততা এবং শেষ মুহূর্তের কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছেন তিনি।ফেসবুক পোস্টে বন্যা মির্জা লিখেছেন, আমার বাপী মির্জা আবুল হাসনাত ইনামুল বারী ১৫ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিটে আমাদের ছেড়ে চলে যান অন্য এক অজানা জগতে। সকল সন্তান তার বাবাকে সৎ ও সাহসী ভাবতে পছন্দ করে। কিন্তু আমার বাবা প্রকৃত সৎ ও সাহসী। জীবন নিয়ে তার কোনো অভিযোগ ছিলো না। শুধু চাইতেন আমরা তার সামনে থাকি সবসময়।অভিনেত্রী লেখেন, কিন্তু আমরা তা কোনদিন বুঝতে পারিনি। কারণ আমাদের জীবন খুব সাধারণ ছিল, এখনো আছে। তিনি তার কর্মজীবনে অনেকগুলো মানুষের ভরণপোষণ করেছেন। আমি তার সততার বড়াই করছি না। বরং এটা একটা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখছি বা আমরা তাই দেখি। তবু আজ বলছি কারণ তিনি আর নেই কোথাও। আরও পড়ুন: বাবা হারালেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জাঅবসরের পর ওপেন হার্ট সার্জারির দিনগুলোতেও তার বাবা হাসিমুখে লড়েছেন বলে উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। লেখেন, তার অফিসের সহকর্মীরাও জানতেন। অফিসে কোনোদিন দেরি করে যাননি। অনেক কষ্ট করেছেন তবু হাসিমুখে থেকেছেন। রিটায়ার এর পরে তার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। আমার বাবা বিশেষ বা বিশাল কোন মানুষ ছিলেন বলে আমারা দাবি করিনা। তিনি সাধারণ মানুষ ও একজন বাবা। আমরাও তার মতো খুব সাধারণ, এবং আমাদের জীবনও তাই। এইভাবে থাকা আমরা আমার বাবার কাছেই শিখেছি।বন্যা মির্জা তার পোস্টে আরও একটি আবেগী তথ্য শেয়ার করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগের রাতে তার বাবা পরিবারের সবাইকে ভিডিও কল করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। এর পরদিন সকালেই তিনি অন্য এক অজানা জগতে পাড়ি জমান।আগামী শনিবার (১৮ এপ্রিল) যোহর নামাজের পর মনসুরাবাদ জামে মসজিদে তার জানাজা হবে বলেও জানান অভিনেত্রী। আরও পড়ুন: তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচার তানিয়া বৃষ্টিরকৃতজ্ঞতা জানিয়ে অভিনেত্রী লেখেন, আমি যেহেতু মিডিয়াতে কাজ করি বা করেছি তাই কিছু মানুষ আমাকে চেনেন। আমার বাবাকে নিয়ে অনেকে নিউজ করেছেন। যারা নিউজ করেছেন তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। অনেক মানুষ আমাকে কল করে সমবেদনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।উল্লেখ্য, এর আগে অভিনেত্রী যখন বাবার মৃত্যুর খবর পান, তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। সেখানে একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই শিল্পী খবর পেয়েই দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। ‘রঙের মানুষ’ ও ‘ভবের হাট’-এর মতো কালজয়ী নাটকের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী জীবন কাটাচ্ছেন।
Go to News Site