Somoy TV
গত বছরের (২০২৫) মে মাসে চারদিনের তীব্র যুদ্ধের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একাধিক ‘ব্যাক-চ্যানেল’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতীয় ও পাকিস্তানি কৌশলবিদ, সংসদ সদস্য এবং অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিকরা অন্তত চারটি গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বলা হয়েছে, অপারেশন সিন্দুরের মাত্র দু’মাস পরই প্রথম বৈঠকটি হয়।ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে পেহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদৃর’ নামে সামরিক অভিযান চালায় ভারত। পাকিস্তানের জবাবের মধ্যদিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। হিন্দুস্তান টাইমস বলেছে, গত বছর ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত চার দিনের সংঘর্ষের পর ভারত সিন্ধু নদীর পানি চুক্তি স্থগিত করা এবং কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়। সেই থেকে এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে। তবে হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ‘অপারেশন সিন্দুরের’ পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘ব্যাক-চ্যানেল’-এ অন্তত চারটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিল্লিভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যম বলেছে, এর মধ্যে দুটি বৈঠক ছিল ট্র্যাক ১.৫ (সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাদের মিশ্রিত), আর বাকি দুটি ছিল ট্র্যাক ২ (পুরোপুরি বেসরকারি)। আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর এখনও চলছে’, পাকিস্তানকে ভারতের সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি প্রতিবেদন মতে, সবচেয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাতারের দোহায়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এটির আয়োজনে কাজ করে। ভারতীয় কর্মকর্তারা এখনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ট্র্যাক ১.৫ বৈঠকটি হয় লন্ডনে, গত বছর জুলাই মাসে। আন্তর্জাতিক কৌশলগত অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট (আইআইএসএস) এটি আয়োজন করে। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলে সক্রিয় সামরিক কর্মকর্তারা ছিলেন, কিন্তু ভারত কোনো সক্রিয় কর্মকর্তা পাঠায়নি। এরপর গত বছর অক্টোবর ওমানের মাস্কটে আরেকটি আইআইএসএস আয়োজিত ট্র্যাক ১.৫ বৈঠক হয়। প্রতিবেদন মতে, লন্ডনের আলোচনা ছিল ‘তীব্র’, কিন্তু পরের বৈঠকগুলো আরও ‘শান্ত ও মাপা ভাষায়’ হয়েছে। এরপর ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা ‘দ্য চাও ট্র্যাক’ নামে ট্র্যাক ২ বৈঠকে মিলিত হন (যা আগে চাওফ্রায়া ডায়ালগ নামে পরিচিত ছিল)। আরও পড়ুন: ‘ব্রহ্মসের নাম শুনেই অনেকে উদ্বিগ্ন’, পাকিস্তানকে খোঁচা মোদির সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, দোহার বৈঠকসহ এসব আলোচনা দুই দেশের সম্পর্কের ‘চরম চাপের’ কারণে গোপন রাখা হয়েছে। একসময় দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০টি ট্র্যাক ২ চ্যানেল ছিল, এখন মাত্র ১২টির মতো সক্রিয় আছে। এই গোপন চ্যানেলগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে যোগাযোগ চালু থাকে এবং দুই পক্ষ পরস্পরের মনোভাব বুঝতে পারে।
Go to News Site