Collector
মৈত্রীর জলকেলিতে মারমা যুবাদের বাঁধভাঙা উল্লাস | Collector
মৈত্রীর জলকেলিতে মারমা যুবাদের বাঁধভাঙা উল্লাস
Somoy TV

মৈত্রীর জলকেলিতে মারমা যুবাদের বাঁধভাঙা উল্লাস

মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব সাংগ্রাই জলোৎসব। নতুন বছর শুরুর প্রাক্কালে পুরনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানিকে বিদায় জানাতে মারমারা একে অপরকে জল ছিটিয়ে পরিশুদ্ধ হওয়ার আনন্দে মেতে ওঠেন।পাহাড়ে বাংলা বছর বিদায় ও বরণের সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসবের শেষ দিনে জলকেলিতে মেতে ওঠেন মারমা তরুণ-তরুণীরা।শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাঙামাটির চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে মারমা সংস্কৃতি সংস্থা (মাসস) কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী এ জলকেলি উৎসবের উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন এমপি।সাংগ্রাই উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক পাইচি মং মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব এবং রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারসহ অনেকে।প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন এমপি বলেন, ‘আমাদের সরকার প্রধান রেইনবো নেশনের কথা বলেছেন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আজকের এই সাংগ্রাই উৎসব তারই প্রমাণ। এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ একত্রিত হয়েছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘সাংগ্রাই যদিও মারমাদের বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব, তথাপি আমরা সকলে এক হয়ে জাতপাত ভুলে উৎসবে মিলিত হয়েছি। একে অপরকে মৈত্রীর পানি বর্ষণের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করছি। এটাই বাংলাদেশ।’প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, ‘এই পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৩টি জাতিগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করছে। তারা তাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি পালন এবং রক্ষা করে আসছে। তার প্রমাণ আজকের এই আয়োজন।’তিনি আরও বলেন, ‘কিছু কিছু জাতিগোষ্ঠী ও তাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের মন্ত্রণালয় সেগুলো রক্ষা ও ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। আমরা চাই না কোনো জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাক।’তিনি বলেন, ‘অতীতে পাহাড়ে কী হয়েছে তা আপনারা জানেন। আমরা কোনো বৈষম্য করব না। তিন পার্বত্য জেলাকেই সমভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব। সমানভাবে কাজ করব। এটাই আমাদের সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।’আরও পড়ুন: জলকেলি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শেষ হলো মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবসাংগ্রাই উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক পাইচি মং মারমা বলেন, ‘পাহাড়ের সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তুলতে আমরা চেষ্টা করছি। একইভাবে সারা দেশের মানুষের সঙ্গেও আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি হবে। আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব। আজকের দিনে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’আলোচনা শেষে সাং রে মা গান ও নৃত্যের মূর্ছনায় জলকেলির উদ্বোধন করা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত তরুণ-তরুণীরা দলগতভাবে একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে অতীতের গ্লানি ও ব্যর্থতাকে জলের সঙ্গে ভাসিয়ে দেন।অপরদিকে মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নাচ-গানের সঙ্গে উল্লাস প্রকাশ করেন সব সম্প্রদায়ের মানুষ। রাঙামাটি ছাড়াও খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান থেকে কয়েক হাজার মারমা নারী-পুরুষ এ উৎসবে অংশ নেন। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জলোৎসব উপভোগ করতে হাজির হন পর্যটকরাও।মারমা তরুণ-তরুণীরা জানান, তাদের বিশ্বাস এই মৈত্রীময় জল বর্ষণের মাধ্যমে একে অপরের পুরনো বছরের সব গ্লানি ও ব্যর্থতা ধুয়ে-মুছে যায়। নতুন বছর যেন সবার জীবনে মঙ্গল ও সফলতা নিয়ে আসে— এই প্রত্যাশায় তারা জলোৎসবে মেতেছেন। নিজেদের মতো করে দলবদ্ধভাবে নেচে-গেয়ে বরণ করে নিচ্ছেন নতুন বছরকে।এই জল উৎসবের মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে শেষ হলো পক্ষকালব্যাপী চলা বৈসাবি উৎসবের সব আনুষ্ঠানিকতা।

Go to News Site