Collector
জলকেলি উৎসবে রাখাইনদের তরুণীদের উচ্ছ্বাস | Collector
জলকেলি উৎসবে রাখাইনদের তরুণীদের উচ্ছ্বাস
Somoy TV

জলকেলি উৎসবে রাখাইনদের তরুণীদের উচ্ছ্বাস

পুরো প্যান্ডেল জুড়ে যেন কৃত্রিম বৃষ্টি; সাউন্ড বক্সে নিজেদের ভাষার ঐতিহ্যবাহী গানের শব্দ। মাঠজুড়ে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের মানুষের নাচে-নাচে উচ্ছ্বাস। পাশে পানির পাত্র নিয়ে তরুণীদের অবস্থান। প্যান্ডেলে আসা তরুণদের পানি নিক্ষেপের ভিন্ন এক প্রতিযোগিতা।শুক্রবার বিকেল ৫ টায় কক্সবাজার শহরের মধ্যম টেকপাড়া রাখাইন পল্লীতে গিয়ে দেখা মিলে এমন দৃশ্য। যেখানে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগ প্যান্ডেল স্থাপন করে রাখাইন সম্প্রদায়ের ‘সাংগ্রেং পোয়ে’ এর শেষ ৩ দিনের জলকেলি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। আর এ আয়োজন ঘিরে জলের শুভ্রতায় রাখাইনরা বরণ করে নিয়েছেন রাখাইন বর্ষ ১৩৮৮।রাখাইন পঞ্জিকা অনুসারে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) শেষ হয়েছে রাখাইন বর্ষ ১৩৮৭। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে রাখাইন বর্ষ ১৩৮৮। এই বর্ষ বিদায় ও বরণে কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ের ৭ দিনের ‘সাংগ্রেং’ বা বর্ষ বিদায় ও বরণ উৎসব পালন করে হচ্ছে দীর্ঘদিনের। সামাজিক নিয়ম মতে, ১৪ এপ্রিল শুরু হয়েছে এই উৎসব। আর শেষ তিন দিন ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসবের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ‘সাংগ্রেং’।জলকেলি উৎসবের প্রথম দিন কক্সবাজার শহরের রাখাইনপল্লী ঘিরে ছিল উৎসব আমেজ। যেখানে রাখাইনদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল সকল ধর্মের মানুষ। গরমে জলে-জলে বিমুগ্ধতায় হয়ে উঠেছিল অসম্প্রদায়িক একটি উৎসবের।আরও পড়ুন: কক্সবাজারে জলকেলি উৎসব শুরু আজরাখাইনদের দেয়া তথ্য মতে, কক্সবাজার শহরের রাখাইন পল্লীগুলোতে ২৫ টির বেশি প্যান্ডেলে এই পানি খেলা এক যোগে শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী, মহেশখালী, টেকনাফ ও রামুতে রাখাইন পল্লীতে চলছে এই উৎসব।রাখাইন পল্লীগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, নানা প্রজাতির ফুল আর রঙ-বেরঙের কাগজে সাজানো হয় প্যান্ডেলে সারিবদ্ধ পানি ভর্তি ড্রাম নিয়ে ঐতিহ্যবাহি পোশাক পরিহত রাখাইন তরুণীদের অপেক্ষা। আর নানা সাজে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নেচে-গেয়ে দলবেঁধে এক-একটি প্যান্ডেলে ছুটে যাচ্ছেন নানা বয়সের মানুষসহ তরুণের দল। প্যান্ডেলে পৌঁছেই এক-একজন তরুণ তাদের পছন্দের তরুণীদের নিক্ষেপ করে পানি। আর তরুণীও পানি নিক্ষেপ করে প্রতিউত্তর দেয়। এরপর টানা চলে একে অপরকে পানি নিক্ষেপের এই খেলা।কক্সবাজার সরকারি সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও রাখাইন নেতা ক্যা থিং অং জানান, রাখাইন বর্ষ বিদায় ও বরণে রাখাইদের নিজস্ব সামাজিক অনুষ্ঠান এটি। পুরাতন বছরের সকল গ্লানি, দুঃখ ভুলতে জল নিক্ষেপের এই উৎসব। রাখাইনদের কাছে এ জল শুভ্রতার ও পবিত্রতার। যে উৎসবে প্রতি বছরই সকল ধর্মের মানুষ অংশ নেন। এটি হয়ে উঠে সম্প্রীতির এক উৎসবে। রবিবার শেষ হবে এই উৎসব।কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ ‍সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার জানান, কক্সবাজারের রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে নজরদারি রাখা হয়েছে।

Go to News Site