Somoy TV
প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। সমকালের প্রধান সংবাদ— টিকার অব্যবস্থাপনায় ১১ রোগের বিস্তার এই খবরে বলা হয়েছে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেনাকাটা নিয়ে জটিলতার কারণে ১১টি রোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু টিকার সংকট তৈরি হয়। এতে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়।পাশাপাশি ১৫টি রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বন্ধ করার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।আর তাতে দেশের স্বাস্থ্য খাতে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।এদিকে, সংক্রামক ও অসংক্রামক মিলিয়ে অন্তত ২৬টি রোগ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। এটি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।ছড়িয়ে পড়া রোগের মধ্যে রয়েছে হাম ও রুবেলা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, হেপাটাইটিস, রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), গর্ভকালীন জটিলতা, কালাজ্বর, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, নারী ও প্রসূতি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, কৃমি, রাতকানা, টাইফয়েড, পোলিও, এইচআইভি, ডিপথেরিয়া, পাটুসিস, ধনুষ্টংকার, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, চর্মরোগ, মানিসক স্বাস্থ্য সমস্যা, অন্ধত্ব। দ্বিতীয় মেট্রোরেল করবে সরকার, ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন— প্রথম আলোর প্রধান খবরের শিরোনাম এটি। এই খবরে বলা হয়েছে, ঢাকার কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে জাপানি ঠিকাদারেরা কিলোমিটারপ্রতি যে টাকা চাইছে, তা সরকারের প্রাক্কলনের চেয়ে প্রায় ৯৭ শতাংশ বেশি।অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঠিকাদারদের ব্যয় প্রস্তাব ধরে বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছিল, প্ৰতি কিলোমিটারে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা।অন্যদিকে, সরকার ধরেছিল, ১ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যেখানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকার মতো।এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের ব্যয় বিশ্লেষণ করে ঢাকার নতুন মেট্রোরেলের প্রস্তাবিত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।তখন সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এই প্রকল্পের ঋণদাতা সংস্থা জাইকাকে চিঠি দিয়ে জানায়, ঠিকাদারের দর গ্রহণ করা যাচ্ছে না। সরকার নতুন করে দরপত্র আহ্বানে আগ্রহী।যদিও জাইকা তাতে রাজি হয়নি। আর মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ আটকে যায়।বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেই মেট্রোরেল নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে চাইছে। এজন্য জাইকার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সড়ক মন্ত্রণালয়। বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— দক্ষতার ঘাটতি শিক্ষকদের, বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বাস্তবায়নে এই খবরে বলা হয়েছে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বর্তমান সরকারের ঘোষিত 'ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব' প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ট্যাবে থাকবে পাঠ পরিকল্পনার টেমপ্লেট, প্রশ্নব্যাংক এবং লার্নিং এভিডেন্স আপলোডের সুবিধা।তবে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব, এমনটা মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা।সম্প্রতি জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ডিজিটাল শিক্ষা ও একুশ শতকের দক্ষতা প্রয়োগে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন দেশের শিক্ষকরা।প্রায় ৬০ শতাংশ নিজেদের দক্ষ দাবি করলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে তা প্রয়োগ করতে পারছেন কেবল এক-চতুর্থাংশ শিক্ষক।প্রাথমিকের মতো দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদেরও।ইউনেস্কো প্রকাশিত বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যানের প্রতিবেন অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক স্তরে গড়ে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হার মাত্র ৫৫ শতাংশ।এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত দুটি পৃথক পরামর্শক কমিটিই তাদের প্রতিবেদনে দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিতে যথাযথ প্রশিক্ষণে গুরুত্বারোপ করেছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে শঙ্কা— যুগান্তরের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম এটি এই খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে দেশে হত্যাকাণ্ড বেড়েছে ১৪ শতাংশ।এর মধ্যে গত বছরের প্রথম তিন মাসে সারাদেশে যথাক্রমে ২৯৪, ২১৭ ও ২৩৯টি হত্যা মামলা হয়েছে। আর চলতি বছরের তিন মাসে এই সংখ্যা ২৮৭, ২৫০ ও ৩১৭টি।অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এভাবে ক্রমান্বয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে জনরোষের সৃষ্টি হবে।তাদের মতে, অর্থনীতি বা অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।এজন্য সরকারের অগ্রধিকারের তালিকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার কৌশল থাকতে হবে। কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম— এত তেল যাচ্ছে কোথায় খবরটিতে বলা হচ্ছে, প্রায় দেড় মাস ধরে চলা জ্বালানি সংকটের প্রভাবে জনভোগান্তি চরমে।দেশের অনেক এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।কিন্তু সরকারের দাবি, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সরবরাহও করা হচ্ছে গত বছরের সমপরিমাণ।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তাদেরও দাবি, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট কেবল সরবরাহ ঘাটতির নয়; বরং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা, কালোবাজারি, অব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার সম্মিলিত ফল।পাম্পগুলোতে মূলত অকটেন নিতে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভিড় করছে। আর সরবরাহের বিপরীতে পেট্রল পাম্প থেকে ৩০ শতাংশ বাড়তি চাহিদা আসছে।কিন্তু গত বছর একই সময়ে তারা যতটুকু তেল নিয়েছে, এবারও তা দেওয়া হচ্ছে। যদিও তাতে কোনো কোনো পাম্প প্রতিদিন তেল মিলছে না।এ পরিস্থিতিতে আগামীকাল রোববার থেকে অকটেনের সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা করছে বিপিসি।
Go to News Site