Jagonews24
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার কৃষ্ণপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুমী মুর্মু। তিনি সংসদে গিয়ে সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করতে চান। সুমী মুর্মু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সমতলের আদিবাসীরা জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত। জাতীয় সংসদে আমাদের কথা বলার মতো কেউ নেই। অন্যের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে হয়। তাই নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আমি মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নারী ও শিশু উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে নেওয়া তার বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাবঞ্চিত এলাকায় দুটি স্কুল প্রতিষ্ঠা, যেখানে প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ১৫৫ জন শিশুকে বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে নকশিকাঁথা ও ডিজাইনভিত্তিক একটি উদ্যোগ চালু করেছেন তিনি। বর্তমানে এ কার্যক্রমে ১৭২ জন নারী যুক্ত আছেন। শিশুদের আবাসন সুবিধার জন্য স্বল্প খরচে একটি হোস্টেলও গড়ে তোলা হয়েছে। সুমী মুর্মু আরও জানান, তিনি উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটির মাধ্যমে আদিবাসীদের অধিকার আদায়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। রাজশাহী মহানগরে সংগঠনটির ৫১ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ৩১ জন সদস্য সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা ও সামাজিক সীমাবদ্ধতার কারণে আদিবাসী সমাজ থেকে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বে আসার সুযোগ সীমিত। সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নিজেদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব তৈরি জরুরি। রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসেবে তিনি বাস্তবতার নানা দিক তুলে ধরে সুমী মুর্মু বলেন, সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে আমাদের মধ্যে সবসময় একটি ভীতি কাজ করে। যেকোনো নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমাদের মধ্য থেকেই কাউকে এগিয়ে আসতে হবে। নিজেকে যোগ্য দাবি করে এই আদিবাসী নেত্রী বলেন, মার্কেটিং বিভাগে এমবিএ সম্পন্ন করার পর থেকেই সমাজ উন্নয়নে কাজ করছি। সুযোগ পেলে জাতীয় পর্যায়েও আদিবাসীদের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব বলে আশা করি। নারী হিসেবে পথচলায় শুরুর দিকে নানা বাধার সম্মুখীন হলেও বর্তমানে তিনি পরিবারের সমর্থন পাচ্ছেন বলে জানান। তার এই উদ্যোগ উত্তরবঙ্গসহ সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রভাত টুডু বলেন, উত্তরবঙ্গে প্রায় ১৫ লাখ আদিবাসী বসবাস করলেও তাদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো কেউ নেই। এ কারণে সংগঠনের পক্ষ থেকে সুমী মুর্মুকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, সংরক্ষিত আসনে তাকে নেতৃত্বে দেখতে পাবো। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০টি। মনোনয়ন ফরমের মূল্য ২ হাজার টাকা এবং মনোনয়নপত্র জমার সময় ৫০ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে। মনির হোসেন মাহিন/এনএইচআর/এএসএম
Go to News Site