Jagonews24
# বিদেশি পর্যটকদের কাছেও অনেক জনপ্রিয় এ ফার্নিচার# হোটেল ও রিসোর্ট সাজানো হয় বাঁশের ফার্নিচারে# বাঁশের ফার্নিচারের চাহিদা আরও বাড়ছে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য সবাই কাঠ বা বেতের ফার্নিচার ব্যবহার করেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে ব্যতিক্রমী বাঁশের ফার্নিচার জনপ্রিয় হচ্ছে মৌলভীবাজারে। এ অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ডিজাইন ও কারুকার্য সম্পন্ন কাঠ ও বেতের ফার্নিচারের প্রচলন থাকলেও এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাঁশের ফার্নিচার। এলাকা থেকে সংগৃহীত বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয় এ ফার্নিচার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশি পর্যটকদের কাছেও অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া বাঁশের ফার্নিচার দিয়ে বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট সাজানো হয়েছে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য। জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামের আমির হোসেন সিরাজের বাঁশের ফার্নিচারের কারখানা ও বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, তিনি নিজগ্রামে গড়ে তুলেছেন বাঁশ-বেতের আধুনিক ফার্নিচারের কারখানা। কাঠের ফার্নিচারের দোকানের সাথে পাল্লা দিয়ে বাঁশের দৃষ্টিনন্দন ফার্নিচার বানাচ্ছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করছেন বাঁশের ফার্নিচার। বাড়িতে বাঁশ দিয়ে দোতলা বাড়িও বানিয়েছেন তিনি। জানা যায়, কমলগঞ্জের আমির হোসেন সিরাজ প্রায় দুই দশক আগে কয়েক হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে বাঁশের ফার্নিচারের কারখানা শুরু করেন। এরপর আস্তে আস্তে ব্যবসা বড় হতে থাকে। ২০১৫ সালে মৌলভীবাজার জেলাকে পর্যটন জেলা ঘোষণা করার পর এর চাহিদা পর্যটকদের কাছেও বেড়ে যায়। বিশেষ করে রিসোর্ট ও বিভিন্ন হোটেল মালিকেরা বাঁশের ফার্নিচার অর্ডার করেন। সিরাজ কুটির শিল্পে কর্মরত শিল্পীরা জানান, তাদের এখানে আধুনিক ডিজাইনের সোফাসেট, খাট, ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, আলনা, ড্রেসিং টেবিল, দরজা, জানালা, ফুলের টব, রিডিং টেবিল, টেবিল ল্যাম্প, পেন স্ট্যান্ড বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়। এ ছাড়া রিসোর্ট, কটেজের ফার্নিচার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট-অফিসের ফার্নিচারসহ বিভিন্ন ধরনের চাহিদাসম্পন্ন আসবাবপত্র তৈরি করে দেওয়া হয়। আরও পড়ুনগরু বা ঘোড়া দিয়ে ঘুরতো কলুদের ঘানি শিল্পীরা বলেন, ‘আকার অনুযায়ী প্রথমে বাঁশকে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হয়। শুকানোর পর পোকায় না ধরার জন্য ওষুধ দিয়ে আবার শুকাতে হয়। একটি বড় ফার্নিচার তৈরি করতে ৩-৪ সপ্তাহ লেগে যায়। ছোট আইটেমগুলো সবচেয়ে বেশি চলে। বেশিরভাগ মানুষ শখের বশে এগুলো কিনে নিয়ে যান। যতদিন যাচ্ছে মানুষ বাঁশের ফার্নিচারের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। আমাদের এখান থেকে অনেক বিদেশি পর্যটক এসে ছোট ছোট জিনিস কিনে নিয়ে যান।’ স্থানীয় লিয়াকত আলী জানান, সিরাজ একান্ত চেষ্টা ও কষ্ট করে এ শিল্প গড়ে তুলেছেন। যত সময় যাচ্ছে বাঁশের ফার্নিচারের চাহিদা আরও বাড়ছে। সরকারিভাবে সহযোগিতা করলে এটাকে পূর্ণ একটি শিল্পে রূপান্তর করা যেত। কাঠের তুলনায় বাঁশের ফার্নিচারের দাম কম। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা হওয়ায় অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। এ জন্য এ কুটির শিল্প ভালোই চলছে। সাফওয়ান আহমেদ নামে একজন ক্রেতা বলেন, ‘আমি কিছুদিন আগে এখান থেকে বাচ্চার লেখাপড়ার জন্য একটা চেয়ার ও টেবিল নিয়েছি। এগুলো দেখতে অনেক সুন্দর। কাঠের চেয়ে বাঁশের ফার্নিচারের দাম তুলনামূলক কম।’ সিরাজ কুটির শিল্পের মালিক আমির হোসেন সিরাজ বলেন, ‘প্রায় ২৩ বছর আগে শখের বশে বাঁশের ফার্নিচারের কারখানা শুরু করেছিলাম। প্রথমদিকে সাড়া কম পেলেও গত কয়েক বছর ধরে খুব ভালোই চলছে। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রথমে বাঁশ সংগ্রহ করি আমরা। পরে এগুলো শুকিয়ে ফার্নিচার তৈরি করতে হয়। পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানে দেশি ক্রেতার পাশাপাশি অনেক বিদেশি ক্রেতা আসেন।’ আরও পড়ুননেই সেই ধানের গোলা তিনি বলেন, ‘অনলাইন ও কুরিয়ার সার্ভিসে বিক্রি হয় ফার্নিচার। কেউ কেউ আবার বিদেশেও পাঠান। বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা আছে। বাঁশের মধ্যে পোকায় না ধরার জন্য বিদেশ থেকে একধরনের তেল জাতীয় মেডিসিন ব্যবহার করা হয়। যার কারণে বাঁশের ফার্নিচারগুলো এখন দীর্ঘস্থায়ী হয়। খুব সহজে নষ্ট হয় না। সহযোগিতা পেলে কুটির শিল্পকে অনেক বড় করার ইচ্ছা আছে।’ শ্রীমঙ্গল শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. মুনায়েম ওয়ায়েছ বলেন, ‘সিরাজ ঋণের জন্য আবেদন করেছেন। বিষয়টি আমরা দেখছি। এ ছাড়া যেসব উদ্যোক্তা ঋণের জন্য আবেদন করেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা তাদের ঋণ দিচ্ছি। আমরা সর্বোচ্চ ২ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারি।’ এমএআইএস/এসইউ
Go to News Site