Jagonews24
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে অভিযুক্তকে জুতাপেটা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী। গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে বাড়ির পাশের বোরো ধানক্ষেতে কাজ করতে গেলে একই গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী একাব্বর আলী (৫৩) তাকে ফুসলিয়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তার কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগীর চাচি জানান, ছোট বেলায় বাবাকে হারানোর পর থেকে ভুক্তভোগী তার মায়ের সঙ্গে বসবাস করছেন। তার মা ও ভাইও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ঘটনার পরপরই এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের থানা বা হাসপাতালে যেতে বাধা দেন। পরে ওই রাতেই অভিযুক্তের ছোট ভাই শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে ধর্ষক ও ভুক্তভোগীকে পাশাপাশি বসিয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘটনাটি বর্ণনা করতে চাপ দেওয়া হয়। লজ্জা ও ভয়ের কারণে ভুক্তভোগী কথা বলতে সংকোচবোধ করলে তাকে ধমক দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আপসের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। শেষ পর্যন্ত সালিশে অভিযুক্তকে জুতাপেটা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনের আশ্রয় না নিতে বলা হয়। এদিকে শুক্রবার বিকেলে ওই নারীকে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রেফার করা হয়। এ ব্যাপারে গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি লোক মুখে ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আব্দুল্লাহ আল নোমান/এফএ/এমএস
Go to News Site