Collector
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে পাকিস্তান? | Collector
ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে পাকিস্তান?
Jagonews24

ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে যাচ্ছে পাকিস্তান?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এখন বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে পাকিস্তান। দীর্ঘ উত্তেজনা আর সামরিক সংঘাতের পর দেশ দুটির মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তির গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ওয়াশিংটন, যা চলতি সপ্তাহেই সই হতে পারে। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। আশা-নিরাশার দোলাচল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজ থেকে লাস ভেগাস যাওয়ার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমরা চুক্তির একদম দ্বারপ্রান্তে। তারা পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত হয়েছে এবং প্রায় সব শর্ত মেনে নিয়েছে। এমনকি তারা ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তরের ব্যাপারেও রাজি হয়েছে।’ ট্রাম্প আরও জানান, যদি ইসলামাবাদে এই চুক্তি সই হয়, তবে তিনি নিজে সেখানে যেতে পারেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন সুর পাওয়া গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের ‘সার্বভৌম অধিকার’ এবং তা অব্যাহত থাকবে। নেপথ্যে পাকিস্তানের ‘ডিপ্লোম্যাটিক অর্কেস্ট্রা’ গত কয়েকদিন ধরে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষে বর্তমানে তুরস্কে অবস্থান করছেন। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট পাকিস্তানের এই ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘এই আলোচনায় পাকিস্তানই একমাত্র মধ্যস্থতাকারী এবং তারা অসাধারণ কাজ করছে।’ আলোচনার প্রধান বাধা ও শর্ত বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের মধ্যে প্রধানত ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ নিয়ে দরকষাকষি চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে। তবে ইরান পাল্টা প্রস্তাব দিয়ে বলেছে, তারা সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য এই স্থগিতাদেশ মানতে রাজি। সাবেক পাকিস্তানি কূটনীতিক আসিফ দুররানি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র চায়নি, তারা শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার চায়। এখন সবটাই নির্ভর করছে দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।’ লেবানন পরিস্থিতির প্রভাব আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় খবর হলো ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, লেবাননে শান্তি না ফিরলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো স্থায়ী চুক্তি সম্ভব নয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবিও জানিয়েছেন, লেবানন ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রক্রিয়া একে অপরের পরিপূরক। ২২ এপ্রিলের ডেডলাইন আগামী ২২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। তার আগেই একটি বড় ধরনের সাফল্যের আশা করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদে এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রায় ১০০ জন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদি ট্রাম্পের দাবি সত্য হয় এবং ইসলামাবাদে চুক্তি সই হয়, তবে এটি হবে একুশ শতকের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য। তবে তেহরানের কট্টরপন্থি নেতাদের হুঁশিয়ারি এবং ওয়াশিংটনের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা এই পথকে এখনো কণ্টকাকীর্ণ করে রেখেছে। সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/

Go to News Site