Collector
‘মব’ সৃষ্টি করে ড্যাব নেতাকে লাঞ্ছিত, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি | Collector
‘মব’ সৃষ্টি করে ড্যাব নেতাকে লাঞ্ছিত, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি
Jagonews24

‘মব’ সৃষ্টি করে ড্যাব নেতাকে লাঞ্ছিত, চিকিৎসকদের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি

খুলনার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ড ঘিরে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলুকে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মাবনবন্ধন করেছে ‘ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব)’ নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে খুলনা বিএমএ ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এসময় ড্যাব নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে এই ঘটনার দৃশ্যমান বিচার ও তাকে সসম্মানে পুনর্বহাল করা না হলে বুধবার থেকে খুলনার সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করবে। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের খুলনা মহানগরের সভাপতি ডা. মোস্তফা কামাল। এসময় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ড্যাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আকরামুজ্জামান, খুলনা শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ দেবনাথ, ড্যাব মেডিকেল কলেজ শাখার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. গোলাম আজমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) স্থানীয় সংসদ সদস্য আলী আসগর লবীর উপস্থিতিতে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে ডা. বাবলুকে লাঞ্ছিত করেছে এবং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এটি শুধু একজন চিকিৎসকের ওপর নয়, বরং পুরো চিকিৎসক সমাজের মর্যাদাহানি। বক্তারা জানান, রোববারের মধ্যে সমাধান না হলে বুধবার থেকে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার প্রতীকী কর্মবিরতি পালন করা হবে। তবে জরুরি সেবা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া দলের নাম ভাঙিয়ে এই অপকর্মে জড়িত ৩-৪ জন ‘চিহ্নিত’ ব্যক্তিকে বিএনপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ডা. রফিকুল হক বাবলুর মতো একজন সৎ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য চিকিৎসকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দ্রুত সমস্যার সম্মানজনক সমাধান না হলে ইনডোর সেবা বন্ধসহ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন চিকিৎসকরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল সংসদ সদস্য আলী আসগর লবী বিএনএসবি হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে সেখানে একদল লোক ডা. বাবলুকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গালিগালাজ ও হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে তাকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য বর্তমান কমিটি ভেঙে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ড্যাব নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অভিযোগ থাকলে তদন্ত হতে পারে, কিন্তু এভাবে লাঞ্ছিত করা বা মব সৃষ্টি করা কোনো সমাধান নয়। এর বিচার না হলে ভবিষ্যতে কেউই নিরাপদ থাকবে না। এ বিষয়ে ডা. রফিকুল হক বাবলু জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালে সংসদ সদস্য যাবেন বলে আমরা উপস্থিত ছিলাম। তখন উপস্থিত কিছু লোক এক ধরনের মব তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। বিষয়টি খুলনার সকলে অবগত আছেন। এ বিষয়ে মৌখিকভাবে সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের জানানো হয়েছে। এছাড়া আমাদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে জানানো হবে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর ডা. বাবলুকে চেয়ারম্যান করে বিএনএসবির ১১ সদস্যের নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, যার মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগে ২০১৯ সালে হাসপাতালের সর্বশেষ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। তখন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক। অভ্যুত্থানের পর তাদের অনেকেই আত্মগোপনে চলে যান। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। তখন চেয়ারম্যান করা হয় বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসক নেতা ডা. রফিকুল হক বাবলুকে। ভাইস চেয়ারম্যান হন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মাইনুল ইসলাম। ১১ সদস্যের বোর্ডের সাতজন বিএনপি সমর্থিত, দুজন জামায়াত, একজন ছাত্র প্রতিনিধি এবং একজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ছিলেন। এ বোর্ডের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। আরিফুর রহমান/কেএইচকে/এমএস

Go to News Site