Somoy TV
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনাও করেন। ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প নিয়মিত সামাজিক মাধ্যমে হুমকিমূলক বার্তা দিচ্ছেন—এ প্রসঙ্গে লুলা বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কোনো প্রেসিডেন্টের এমন টুইট দেখতে পারি না, যেখানে তিনি বিশ্বকে হুমকি এবং যুদ্ধের ঘোষণা দিচ্ছেন।’আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্পেনের বার্সেলোনায় প্রগতিশীল নেতাদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ব্রাজিলের এই প্রবীণ রাজনীতিক আরও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যকে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে হবে। শনিবার স্পেনের বার্সেলোনায় প্রগতিশীল ও ঐতিহ্যবাহী গণতান্ত্রিক নেতারা এক সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে কীভাবে বিশ্ব যখন চরম ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছে এবং সংঘাতে জর্জরিত, তখন উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায় তা আলোচনা করেছেন তারা। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই সম্মেলনের আয়োজক। তিনি ডনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সামরিক পদক্ষেপেরও বিরোধী। বার্সেলোনার একটি কনভেনশন সেন্টারে গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল রাজনীতি নিয়ে দুটি সমান্তরাল বৈঠকের আয়োজন করেন তিনি। আরও পড়ুন: বুধবারের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানে আবার হামলা শুরু: ট্রাম্প ‘ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক চতুর্থ বৈঠকে অংশ নেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোসহ আরও প্রায় ১০টি দেশের শীর্ষ বা জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যও রয়েছে। বৈঠকের প্রকাশ্য অংশে কেউ সরাসরি ট্রাম্পের নাম না বললেও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান একতরফা নীতি—যা বহু বছরের পররাষ্ট্রনীতির ধারা থেকে সরে এসেছে—আলোচনায় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ন্যাটো এবং জাতিসংঘের প্রতি তার সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। সানচেজ বলেন, ‘আমরা সবাই দেখছি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ, আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করার বারবার চেষ্টা এবং শক্তি প্রয়োগকে স্বাভাবিক করে তোলার বিপজ্জনক প্রবণতা।’ এদিকে একই দিনে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে আবারও সানচেজকে আক্রমণ করেন। স্পেনে যৌথভাবে পরিচালিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ইরানসংক্রান্ত অভিযানে ব্যবহার করতে না দেওয়া এবং সামরিক ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আরও পড়ুন: চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বলবৎ থাকবে: ট্রাম্প তিনি লেখেন, ‘স্পেনের অবস্থা কতটা খারাপ হয়েছে, কেউ কি দেখেছে? ন্যাটোতে প্রায় কিছুই না দিয়ে এবং নিজেদের প্রতিরক্ষায় খুব কম খরচ করেও তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ। দেখে খারাপ লাগে!!!’ তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক উন্নত দেশের মতো স্পেনের ঋণ থাকলেও পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বে দেশটি এখনও বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির একটি। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও ওয়াশিংটন পোস্ট
Go to News Site