Somoy TV
যশোরে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র জমজ ভাইকে দেয়া হয়েছে মানবিকের প্রবেশপত্র। এমন অবস্থায় আগামী ২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত দুই ভাই।যদিও যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলছেন, পরীক্ষার আগেই বিষয়টি সংশোধনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। সালমান হাসান রিহান ও মোহায়মিন হাসান জিহান। তাদের বয়স ১৭ বছর। তারা যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। বাড়ি একই উপজেলার মাছনা গ্রামে। বাবা মশিয়ার রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে চৌগাছা উপজেলায় কর্মরত। দুই ভাইয়ের পরীক্ষা কেন্দ্র মণিরামপুরের মশিয়াহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার ২৫ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। যার মধ্যে জিহান ও রিহানসহ বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী রয়েছে ১০ জন।সালমান হাসান রিহান বলে, ‘ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আমরা দুই ভাই বাহাদুরপুর হাইস্কুলে পড়ি। বিজ্ঞান বিভাগে রেজিস্ট্রেশন করেছি। এক সপ্তাহ আগে জানতে পারি, আমাদের প্রবেশপত্রে মানবিক বিভাগ লেখা। এখন পর্যন্ত আমরা জানি না আদৌ আমরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারব কিনা।’মোহায়মিন হাসান জিহান বলে, ‘আমার বিভাগের ভুলের পাশাপাশি নামও উল্টে দেয়া হয়েছে। মোহায়মিনের স্থানে ‘মুসায়মিন’ লেখা হয়েছে।’আরও পড়ুন: গতি পেয়েছে যশোর ইপিজেড, প্লট বরাদ্দ জুলাইয়েবাবা মশিয়ার রহমান বলেন, ‘জিহান ও রিহানের জন্ম ২১ ডিসেম্বর ২০০৮। তারা জমজ। গত সপ্তায় বিদ্যালয় থেকে আমাকে জানানো হয়, ছেলেদের মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র এসেছে। বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলি। তখন তিনি বলেন, এটা কোনো জটিল সমস্যা না, দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে সংশোধন করে প্রবেশপত্র দেয়ার কথা। কিন্তু সংশোধন না করেই মানবিকের প্রবেশপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি রোববার পর্যন্ত সময় চেয়েছেন।’বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ের ত্রুটি স্বীকার করে বলেন, ‘প্রবেশপত্রে এরকম টুকটাক ভুল অন্য বিদ্যালয়েও হয়ে থাকে। বিষয়টি সংশোধনের চেষ্টা করছি। আগামী রোববার নাগাদ সংশোধিত প্রবেশপত্র দিতে পারব।’যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেন, ‘এটি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বহীনতা। আমরা এক বছর আগে রেজিস্ট্রেশন কার্ড দিয়ে রেখেছি, যাতে শিক্ষার্থীরা দেখতে পারে সেখানে কোনো ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে কি না। প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে এমনটি হয়েছে, তার শাস্তি হওয়া উচিৎ। যাহোক, কাগজপত্র নিয়ে এলে আমরা পরীক্ষার আগেই বিষয়টি সমাধান করে দেব।’
Go to News Site