Collector
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কী প্রতিক্রিয়া গ্রাহকদের? | Collector
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কী প্রতিক্রিয়া গ্রাহকদের?
Somoy TV

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় কী প্রতিক্রিয়া গ্রাহকদের?

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে জ্বালানির দাম। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পাম্প মালিক সমিতি। তবে দাম বাড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব জীবনযাত্রার অন্যান্য খাতেও পড়বে এবং এতে সামগ্রিক ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক তেলের বাজার। দাম ওঠা-নামার প্রভাবে বিভিন্ন ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে অবশেষে দেশেও ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্ধারিত নতুন দর অনুযায়ী, রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে পাম্পগুলোতে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়। আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের নতুন দাম আজ থেকে কার্যকর, কোনটির লিটার কত? এছাড়া প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রাফিক্স চিত্রে জ্বালানি তেলে নতুন দাম তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ফিলিং স্টেশনে আগের মতোই গ্রাহকের দীর্ঘ লাইন রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, তেলের দাম বাড়ায় সবকিছুরই দাম বেড়ে যাবে। যার প্রভাব জীবনযাত্রার অন্যান্য খাতেও পড়বে। আকিব নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, তেলে দাম ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়ত সহনীয় ছিল, কিন্তু একবারে ২০ টাকা বাড়ানো ঠিক হয়নি। এতে গণপরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাবে। অন্যান্য পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়বে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও ভোক্তাদের বেশি দাম দিতে হচ্ছে। ফরহাদ নামে এক ক্রেতা বলেন, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন দেশে এখন সর্বোচ্চ মজুত রয়েছে। তাহলে আমরা যে বাড়তি টাকা দেবো, সেটা কোথায় যাবে? এতে তো মজুতদাররাই লাভবান হবে, সাধারণ মানুষ ভুগবে। আরও পড়ুন: তেলের দাম বাড়ানোয় সরকারকে সাধুবাদ জানাল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি তবে ভিন্ন মতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, দাম সমন্বয় আগেই করা উচিত ছিল। নোমান নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, এটা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। দাম বাড়ানোর ফলে পাম্পে দীর্ঘ লাইন কমে যাবে, সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। এদিকে, সরকারের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে পাম্প মালিক সমিতি। এর ফলে মজুতের প্রবণতা কমবে এবং বিক্রিতে স্বচ্ছতা আসবে বলেও মনে করেন তারা। এক বার্তায় সমিতির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ জানান, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করায় সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। এর ফলে জ্বালানি তেলের মজুত প্রবণতা কমবে, বিক্রিতে আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে আমরা মনে করি। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর এর আগে কয়েক দফায় জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়। দাম বাড়ানো হয় ফার্নেস অয়েলেরও।

Go to News Site