Jagonews24
সমঝোতার আশা জাগিয়েও ফের গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ওয়াশিংটনও তাদের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতিতে অটল। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আলোচনার পথে ‘অযৌক্তিক’ বাধা ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন তাদের অযৌক্তিক সব দাবি থেকে সরে আসতে চাইছে না। খাতিবজাদেহর মতে, একটি যৌথ কাঠামোতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষের মুখোমুখি বসা সম্ভব নয়। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করে না। যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘মাঠে’ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আরও পড়ুন>>হরমুজে ভারতীয় ট্যাংকারে ইরানের গুলি, পিছু হটলো ২ জাহাজযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ ইরানপাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে। ইরানি বন্দরে অবরোধ দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্ত একটি ‘মূর্খতাসম্মত’ এবং ‘অজ্ঞতাপূর্ণ’ পদক্ষেপ। ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ও নতুন হুমকি অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরানের কোনো ব্ল্যাকমেইলের কাছে ওয়াশিংটন নতি স্বীকার করবে না। এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অবরোধের পরিধি আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে শুধু ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত জাহাজগুলোর ওপর এই বিধিনিষেধ থাকলেও, ভবিষ্যতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর এই অবরোধ বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও গোলাগুলি উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে গুলি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি গানবোট থেকে ট্যাংকার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে জাহাজ ও এর ক্রুরা বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘনিয়ে আসছে ডেডলাইন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম দফার আলোচনার পর দ্বিতীয় দফা বৈঠকটি নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান অচলাবস্থায় সেই বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। যুদ্ধবিরতি শেষ হতে আর মাত্র তিনদিন বাকি। এই অল্প সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান না এলে মধ্যপ্রাচ্য সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/
Go to News Site