Collector
কায়রোর ময়লার ভাগাড় থেকে যেভাবে হলো আল-আজহার পার্ক | Collector
কায়রোর ময়লার ভাগাড় থেকে যেভাবে হলো আল-আজহার পার্ক
Jagonews24

কায়রোর ময়লার ভাগাড় থেকে যেভাবে হলো আল-আজহার পার্ক

প্রাচীন সভ্যতার দেশ মিশরের রাজধানী কায়রোর ঐতিহাসিক সালাহউদ্দিন আইয়ুবী দুর্গ কিংবা প্রাচীন ইসলামী ঐতিহ্যের ধারক আল-আজহার মসজিদের সুউচ্চ মিনারে দাঁড়ালে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ সবুজের এক অপূর্ব সমারোহ। দুই যুগ আগেও এই এলাকাজুড়ে ছিল শহরের অন্যতম বৃহৎ বর্জ্যের ভাগাড়—দূষণ, দুর্গন্ধ আর অবহেলার এক করুণ চিত্র। সেই পরিত্যক্ত ভূমিই আজ রূপ নিয়েছে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আধুনিক ও নান্দনিক নগর উদ্যান আল-আজহার পার্কে। এটি কেবল একটি পার্ক নয়; বরং নগর পুনর্গঠন, পরিবেশ পুনর্বাসন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের এক অনন্য উদাহরণ। জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের আধ্যাত্মিক নেতা প্রিন্স আগা খান (চতুর্থ) কায়রো সফরকালে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত দারাসা পাহাড় পরিদর্শন করেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ দেখে তিনি বিস্মিত হন এবং এই এলাকাকে একটি সবুজ উদ্যানে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখেন। তারই উদ্যোগে ট্রাস্ট অ্যান্ড কালচারের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল শুধু একটি পার্ক নির্মাণ নয়; বরং একটি সমন্বিত ও টেকসই নগর উন্নয়ন মডেল গড়ে তোলা। খনন কাজের সময় মাটির নিচ থেকে আবিষ্কৃত হয় ১২শ শতাব্দীর ঐতিহাসিক আইয়ুবী দেওয়াল যা সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর আমলের প্রতিরক্ষা প্রাচীরের অংশ ছিল। এই আবিষ্কার প্রকল্পটিকে আরও ঐতিহাসিক গুরুত্ব এনে দেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রায় ১৫ লাখ ঘনমিটার আবর্জনা অপসারণ করা হয় এবং হাজার হাজার ট্রাকভর্তি বর্জ্য সরিয়ে উন্নত মানের মাটি এনে পুরো এলাকাকে সবুজায়নের উপযোগী করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশ ও স্থানীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা দুই মিলিয়নেরও বেশি গাছ ও উদ্ভিদ রোপণ করা হয় পার্কজুড়ে। একইসঙ্গে আশপাশের এলাকায় সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি একটি মানবিক উন্নয়ন উদ্যোগে পরিণত হয়। প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কটি ২০০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ৩০ হেক্টর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত পার্কটিতে রয়েছে সুপরিকল্পিত বাগান, সবুজ ল্যান্ডস্কেপ, জলাধার, মনোরম ফোয়ারা, শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থা, রেস্তোরাঁ ও সাংস্কৃতিক পরিসর ছাড়াও উঁচু স্থান থেকে পুরোনো কায়রোর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ। পার্কটির নকশায় ঐতিহ্যবাহী ইসলামি বাগানশৈলী এবং আধুনিক নগর পরিকল্পনার চমৎকার সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। আজ আল-আজহার পার্ক বিশ্বব্যাপী অন্যতম সফল নগর উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে স্বীকৃত। এটি ‌‘বিশ্বের সেরা নগর উন্মুক্ত স্থান’-গুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এবং নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি অনুসরণ যোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমআরএম

Go to News Site