Jagonews24
যুগ বদলেছে, অর্থনীতি বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে—কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংকট কি বদলেছে? বরং প্রশ্ন জাগে, আমরা কি সচেতনভাবেই “নকলের সংস্কৃতি” টিকিয়ে রেখেছি? কারণ, যে ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শেখায় না, বরং নম্বরের পেছনে দৌড়াতে বাধ্য করে—সেই ব্যবস্থাই নকলকে জন্ম দেয়, পুষ্টি দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বৈধতা দেয়। বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত এক দশকে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, অনেক ক্ষেত্রে ভর্তিচ্ছুদের ৭০-৮০ শতাংশই ন্যূনতম যোগ্যতাও অর্জন করতে পারছে না। এই বৈপরীত্য কেবল পরিসংখ্যানের অসামঞ্জস্য নয়; এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি। প্রশ্ন হলো, যদি এত শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়, তাহলে তারা উচ্চশিক্ষার প্রাথমিক মানদণ্ডেও কেন টিকে থাকতে পারে না? উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের তাকাতে হয় সেই পরীক্ষাভিত্তিক, মুখস্থনির্ভর মূল্যায়ন পদ্ধতির দিকে, যেখানে জ্ঞান নয়—প্যাটার্ন মুখস্থ করাই সফলতার চাবিকাঠি। আর এই সংস্কৃতি থেকেই জন্ম নেয় নকলের প্রবণতা। দুই.বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য আমরা কিছু কেস স্টাডি তুলে ধরছি। কেস স্টাডি ১: “জিপিএ-৫ কিন্তু অযোগ্য”ঢাকার একটি নামকরা কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া এক শিক্ষার্থীর গল্প ধরা যাক—তার নাম ধরা যাক “রাফি” (ছদ্মনাম)। স্কুল-কলেজে সে ছিল মেধাবী হিসেবে পরিচিত। কোচিং, সাজেশন, গাইডবই—সবকিছু মেনে চলেই সে পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সে প্রাথমিক বাছাইয়েই বাদ পড়ে। পরে দেখা যায়, একটি সাধারণ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ বা গাণিতিক যুক্তি প্রয়োগে সে দুর্বল। তার নিজের ভাষায়—“আমি পড়েছি, কিন্তু বুঝে পড়িনি; পরীক্ষার জন্য পড়েছি।” রাফির ঘটনা ব্যতিক্রম নয়; বরং এটি একটি প্রবণতা। অর্থাৎ, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় “সফলতা” মানে শেখা নয়, বরং পরীক্ষায় টিকে থাকা। কেস স্টাডি ২: পরীক্ষাকেন্দ্রের বাস্তবতাকিছু বছর আগে দেশের বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নকলের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। একাধিক গণমাধ্যম অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্ন পেয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও খাতায় লিখে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসনিক কঠোরতা বাড়ানো হলেও এসব অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই বাস্তবতা আমাদের একটি কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায়—যেখানে পুরো ব্যবস্থাই যদি নম্বরনির্ভর হয়ে পড়ে, সেখানে নৈতিকতা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যায়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এমনকি কখনও কখনও প্রতিষ্ঠান—সবাই এক ধরনের অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ে। কেস স্টাডি ৩: দক্ষতার ঘাটতি ও শ্রমবাজারবাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি জানান, প্রতি বছর হাজারো আবেদন আসে, কিন্তু যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ করে যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধান এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতায় বড় ঘাটতি দেখা যায়। একটি গবেষণায়ও উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অনেক তরুণ-তরুণী চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় স্কিল অর্জন করতে পারছে না। ফলে একদিকে শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে দক্ষ জনশক্তির অভাবে শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেস স্টাডি ৪: বিকল্প পথের সফলতাএবার একটি ভিন্ন উদাহরণ। রাজশাহীর একটি স্কুলে পরীক্ষার পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের কেবল লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে প্রকল্পভিত্তিক কাজ, উপস্থাপনা এবং দলগত কার্যক্রমের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা শুরু হয়। ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে, তারা বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে পারছে এবং নকলের প্রবণতা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এই উদাহরণ দেখায়—ব্যবস্থা বদলালে আচরণও বদলায়। অর্থাৎ, নকল ঠেকাতে কেবল শাস্তি নয়, বরং শিক্ষার ধরন পরিবর্তনই কার্যকর সমাধান। এই কেস স্টাডিগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—নকল কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি একটি কাঠামোগত ব্যর্থতার ফল। তাই সমাধানও হতে হবে গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মূল্যবোধ গঠনেরও একটি প্রক্রিয়া। যদি আমরা সততা, দায়িত্ববোধ এবং ন্যায়বোধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তুলতে না পারি, তবে নকলের সমস্যা কখনোই পুরোপুরি দূর হবে না। বাংলাদেশের উন্নয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হওয়া উচিত শিক্ষায়। কিন্তু সেই শিক্ষা যদি কেবল সনদ তৈরির কারখানায় পরিণত হয়, তবে তা দেশের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। নকল ঠেকাতে হেলিকপ্টার নয়, প্রয়োজন একটি নতুন দর্শন—যেখানে শিক্ষা মানে হবে বুঝে শেখা, প্রশ্ন করা, চিন্তা করা। তাহলেই আমরা একটি সত্যিকারের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব। প্রথমত, মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। মুখস্থনির্ভর প্রশ্ন কমিয়ে বিশ্লেষণধর্মী ও প্রয়োগমূলক প্রশ্ন বাড়াতে হবে। ওপেন-বুক পরীক্ষা, গবেষণাধর্মী অ্যাসাইনমেন্ট—এসব চালু করা গেলে নকলের সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি। নতুন পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষককে প্রস্তুত না করলে তা ব্যর্থ হবেই। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং প্রণোদনা—এসব নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, নীতিনির্ধারণে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। বারবার শিক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলা যাবে না। একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যা গবেষণাভিত্তিক এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য। চতুর্থত, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে—তবে তা হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। শহর-গ্রাম বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আর নৈতিকতার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মূল্যবোধ গঠনেরও একটি প্রক্রিয়া। যদি আমরা সততা, দায়িত্ববোধ এবং ন্যায়বোধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তুলতে না পারি, তবে নকলের সমস্যা কখনোই পুরোপুরি দূর হবে না। বাংলাদেশের উন্নয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হওয়া উচিত শিক্ষায়। কিন্তু সেই শিক্ষা যদি কেবল সনদ তৈরির কারখানায় পরিণত হয়, তবে তা দেশের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। নকল ঠেকাতে হেলিকপ্টার নয়, প্রয়োজন একটি নতুন দর্শন—যেখানে শিক্ষা মানে হবে বুঝে শেখা, প্রশ্ন করা, চিন্তা করা। তাহলেই আমরা একটি সত্যিকারের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারব। তিন.একসময় পরীক্ষার হলে নকল ঠেকাতে প্রশাসনিক কড়াকড়ি ছিল শিরোনাম। হেলিকপ্টারে করে কেন্দ্র পরিদর্শন—এ যেন সমস্যার মূলকে না ছুঁয়ে উপসর্গ নিয়ে নাটকীয় লড়াই। এতে হয়তো সাময়িকভাবে নকল কমেছে, কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান কি বেড়েছে? বাস্তবতা বলছে—না। রাজনৈতিক বাস্তবতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময়ই হয়ে ওঠে জনপ্রিয়তা অর্জনের একটি হাতিয়ার। সহজ প্রশ্ন, উচ্চ পাসের হার, বেশি জিপিএ-৫—এসবই “সাফল্য” হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু এই সাফল্য আসলে কতটা টেকসই? যখন শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়ে, তখন সেই সাফল্যের ভঙ্গুরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশ্বব্যাংক, ইউনেসকোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও “লার্নিং পভার্টি” একটি বড় সমস্যা—অর্থাৎ, নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছেও শিক্ষার্থীরা মৌলিক পড়া ও গণনার দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। প্রাথমিক স্তরের অনেক শিক্ষার্থীই একটি সাধারণ অনুচ্ছেদ পড়ে তা বুঝতে ব্যর্থ হয়। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে উচ্চমাধ্যমিক বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জিপিএ-৫ এর বন্যা এক ধরনের বিভ্রম তৈরি করে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের শ্রমবাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে ভুগছে। তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধান—এসব ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে। ফলে একদিকে শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে শিল্প খাত দক্ষ জনশক্তির অভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাধ্য হচ্ছে। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, একটি নীতিগত ব্যর্থতার ইঙ্গিত। তাহলে সমাধান কোথায়?প্রথমত, আমাদের স্বীকার করতে হবে—নকল কোনো বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার ফল। তাই সমাধানও হতে হবে কাঠামোগত। পরীক্ষার পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে। মুখস্থভিত্তিক প্রশ্নের পরিবর্তে বিশ্লেষণধর্মী, প্রয়োগমূলক প্রশ্ন বাড়াতে হবে। ওপেন-বুক পরীক্ষা, প্রকল্পভিত্তিক মূল্যায়ন, মৌখিক উপস্থাপনা—এসব পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে, যেখানে নকলের সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন অপরিহার্য। বর্তমানে অনেক শিক্ষকই নতুন পাঠ্যক্রমের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না। প্রশিক্ষণের অভাব, প্রযুক্তিগত অদক্ষতা এবং প্রণোদনার ঘাটতি—সব মিলিয়ে তারা নিজেরাও এক ধরনের চাপে থাকেন। অথচ একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলো দক্ষ শিক্ষক। তৃতীয়ত, নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা আনতে হবে। বারবার শিক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করে শিক্ষার্থীদের ‘গিনিপিগ’ বানানো বন্ধ করতে হবে। একটি নতুন নীতি চালু করার আগে তা নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা, পাইলট প্রকল্প এবং মূল্যায়ন করা জরুরি। উন্নত দেশগুলো এভাবেই শিক্ষা সংস্কার করে—ধীরে, কিন্তু স্থিতিশীলভাবে। চতুর্থত, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা আমরা অনেক বলি, কিন্তু সেই ডিজিটাল সক্ষমতা কি আমাদের শ্রেণিকক্ষে পৌঁছেছে? অনলাইন শিক্ষা, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, ভার্চুয়াল ল্যাব—এসবের সম্ভাবনা অনেক, কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং নীতিগত সহায়তা। চার.সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। নকল কেবল একটি একাডেমিক অপরাধ নয়; এটি একটি নৈতিক সংকট। যদি শিক্ষার্থীরা মনে করে যে যেকোনো উপায়ে সফল হওয়াই গ্রহণযোগ্য, তাহলে তারা ভবিষ্যতে একই মানসিকতা নিয়ে কর্মক্ষেত্রেও প্রবেশ করবে। ফলে দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অযোগ্যতার একটি চক্র তৈরি হবে, যা পুরো সমাজকে গ্রাস করবে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি রাজনৈতিকও বটে—আমরা কি সত্যিই একটি দক্ষ, চিন্তাশীল প্রজন্ম চাই? নাকি এমন একটি প্রজন্ম, যারা কেবল সনদধারী কিন্তু দক্ষতাহীন? যদি প্রথমটি চাই, তবে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতেই হবে। আর যদি দ্বিতীয়টি মেনে নিই, তবে নকলের বিরুদ্ধে যত অভিযানই চালানো হোক, তা কেবল একটি প্রদর্শনী হিসেবেই থেকে যাবে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের পথে যাত্রা করছে। এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মানবসম্পদ। কিন্তু সেই মানবসম্পদ যদি গুণগত দিক থেকে দুর্বল হয়, তবে উন্নয়নের ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে পড়বে। তাই এখন সময় এসেছে সাহসী, তথ্যভিত্তিক এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার। শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শেখা হবে আনন্দের, জ্ঞান হবে শক্তি, আর সততা হবে স্বাভাবিক আচরণ। তাহলেই আমরা সত্যিকারের অর্থে একটি জ্ঞানভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং টেকসই সমাজ গড়ে তুলতে পারব। লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।drharun.press@gmail.com এইচআর/এমএস
Go to News Site