Collector
বটবৃক্ষটি যেন প্রকৃতি ও মানবমনের যোগসূত্র, প্রচলিত রয়েছে নানান লোককথা | Collector
বটবৃক্ষটি যেন প্রকৃতি ও মানবমনের যোগসূত্র, প্রচলিত রয়েছে নানান লোককথা
Somoy TV

বটবৃক্ষটি যেন প্রকৃতি ও মানবমনের যোগসূত্র, প্রচলিত রয়েছে নানান লোককথা

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় বনবিবি বটতলা একটি ঐতিহাসিক স্থান। যা প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা জমির উপর বিস্তৃত। এই বটগাছটি বহু বছর ধরে স্থানীয় ভাবে নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বহু বছর ধরে এই স্থানটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জনসভা এবং সাধারণ মানুষের মিলনস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বটগাছকে পবিত্র স্থান বলে মনে করেন । এবারও পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়।চারদিকে সবুজের সমারোহ। বাতাসে ভেসে আসে পাখির কলকাকলি। গাছের পাতায় বাতাসের শব্দ আর ডালে বসা পাখির ডাক মিলে তৈরি হয় প্রশান্তির এক পরিবেশ। ছড়িয়ে থাকা একেকটি শাখাকে তখন মনে হয় পরম মমতায় বাড়িয়ে দেয়া হাত। অচেনা এক মায়া যেন টেনে ধরে। প্রকৃতি আর মানবমনের এ অদৃশ্য যোগসূত্রের দেখা মিলবে সাতক্ষীরার দেবহাটার বনবিবির বটতলায়। শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে দেবহাটা উপজেলা সদর। সেখানেই রয়েছে ৪০০ বছর বয়সী এই বটগাছ। এটিই ‘বনবিবির বটতলা’নামে পরিচিত। প্রায় সাড়ে তিন একর জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে বটগাছটি। আরও পড়ুন: নব্বইয়ের দশকে লাগানো সেই বিরল বৃক্ষটি ফুলে ফুলে ছড়াচ্ছে স্নিগ্ধতা গাছের শাখা-প্রশাখা থেকে নেমে আসা অংশ মাটির সঙ্গে তৈরি করেছে ছায়া শীতল নিবড়ি শীতল সম্পর্ক। ধারণা করা হয়, বহু পুরোনো বটতলাটি একসময় সাধু ও ঋষিদের ধ্যানের জায়গা ছিল। এখানে বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা হতো। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালিত হতো। জনশ্রুতি রয়েছে, কারও মনের বাসনা পূরণের জন্য এখানে এসে বনবিবিকে স্মরণ করলে এবং তার কাছে চাইলে মনের আশা পূরণ হয়। বর্তমানে এখানে আর সাধু-ঋষিদের ধ্যান করতে দেখা যায় না। তবে বিনোদনের জন্য অনেক নারী-পুরুষ এখানে ভিড় জমায়। বিশেষ করে ঈদের ছুটি কাটাতে, পহেলা বৈশাখ উদযাপনে এখানে ভিড় জমায় ছোটবড় ও নারী পুরুষ। এখন চলে সভা-সমাবেশ ও ইসলামি মাহফিল। ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, ‘বটতলা জায়গাটি অনেক ঐতিহ্যবাহী। এখানে প্রতিবছর হাজত-মানত মেলা হয়। মেলায় হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ অংশ নেয়। আমরাও মেলায় আসি, অনেক মজা হয়। গাছটি কত বছরের পুরোনো কেউ বলতে পারে না। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো, কেউ বলতে পারে না এর মূল শেকড় কোথায়? শোনা যায়, কেউ গাছটি কাটার চেষ্টা করলে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের কোনো না কোনো ক্ষতি হয়। তাই কেউ কাটে না। এই বটতলাতেকে ঘিরে হয়েছে চলচ্চিত্র।  আরও পড়ুন: পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে সরকার বেড়াতে আসা অনেকেই জানান, জায়গাটি অনেক নিরিবিলি এবং খুবই সুন্দর হওয়ায় মাঝে মাঝে বেড়াতে আসি। কিন্তু এখানে বসার কোনো স্থান নেই। কোথাও কোনো পরিপাটি নেই। জায়গাটি যদি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়, তাহলে এখান থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করতে পারবে। সবাই এসে সময় কাটাতে পারবে। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছে এই বনবিবির বটতলা। ছায়া সুনিবিড়, পাখির কুজনে মুখরিত, শ্যামল ও নয়নাভিরাম এই স্থানটিতে অবসরের কিছুটা সময় বসে থাকলে মনের সকল ক্লান্তি দূর হয়।

Go to News Site