Jagonews24
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ এপ্রিল) দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। তবে অন্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএই) মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। তবে দুই বাজারেই বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম কমে যায়। ফলে লেনদেনের শুরুর দিকেই সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে লেনদেনের সময় ২০ মিনিট পার হওয়ার আগেই দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখাতে থাকে বিমা খাতের কোম্পানিগুলো। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। কিন্তু লেনদেনের শেষ দুই ঘণ্টায় বাজারে এক প্রকার ঢালাও দরপতন হয়। অবশ্য এর মধ্যেও বিমা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। কিন্তু অন্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ঢালাও দরপতন হওয়ায় দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৩টির। আর ৫৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বিমা খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৪৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০টির দাম কমেছে এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১১টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৮টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৪টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮টির দাম বেড়েছে এবং ১২টির দাম কমেছে ও ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে নেমে গেছে। তবে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। প্রধান মূল্য সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ২৫ লাখ টাকার। ২১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—রানার অটোমোবাইল, একমি পেস্টিসাইড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, গোল্ডেন সন, ইস্টার্ণ ব্যাংক এবং মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৮টির এবং ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এমএএস/এমএমকে
Go to News Site