Collector
রাস্তার অভাবে মডেল মসজিদে নামাজে যেতে পারেন না মুসল্লিরা | Collector
রাস্তার অভাবে মডেল মসজিদে নামাজে যেতে পারেন না মুসল্লিরা
Somoy TV

রাস্তার অভাবে মডেল মসজিদে নামাজে যেতে পারেন না মুসল্লিরা

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দীর্ঘদিনে সম্পন্ন হয়েছে মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ। তবে মসজিদ কাম ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি নির্মাণ হলেও সড়ক না থাকায় মসজিদে যেতে পারছেন না মুসল্লিরা। তড়িঘড়ি করে জায়গা নির্ধারণ এবং অপরিকল্পিত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে ঈদগাহ মাঠটিও সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে না পেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।এদিকে সড়ক করতে পুকুর ভরাটের পাঁয়তারার অভিযোগ স্থানীয়দের। গণপূর্ত বিভাগের এমন কাণ্ডে হতবাক এলাকাবাসী।বিগত পতিত সরকারের সময়ে দেশব্যাপী নির্মাণ করা হয় ৫৬০ টি মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এরই ধারবাহিকতায় নেত্রকোনা জেলাতেও বাস্তবায়ন হয়েছে ১০ মসজিদ নির্মাণ। কিন্তু বেশিরভাগই জায়গা নির্ধারণ সঠিক না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তারমধ্যে দুই দফায় টেন্ডার দিয়ে অবশেষে সড়ক ছাড়াই নির্মাণ হয়েছে সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরের মসজিদটি।শুধু তাই নয়, তরিঘড়ি করে উপজেলার একমাত্র ঈদগাহ মাঠের ঠিক মাঝখানে করায় মাঠটিও এখন পড়ে গেছে পিছনে। অন্যদিকে পুকুরের ওপর চলে এসেছে মসজিদের সিঁড়ি। সব মিলিয়ে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ গণপূর্তের এমন কান্ডে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদগাহ মাঠের জন্য ওয়াকফ করা জমিতে পুকুরও রয়েছে। যা খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু জায়গা নির্ধারণের পূর্বে প্রথম একটি সভায় বর্তমান নির্মিত মসজিদের কারণে সৃষ্ট সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। তরিঘড়ি জায়গা দিয়ে দেয়ায় আজ নির্মিত মসজিদ এবং ঈদগাহ মাঠের কোনটিরই সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। উল্টো সড়ক নিয়ে দেখা দিয়েছে পুকুর ভরাটের জটিলতা। ব্যয় হয়েছে অর্থ। মুসল্লিসহ এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।তবে স্থানীয় প্রশাসনসহ বাস্তবায়নকারী দপ্তর বলছে বিগত সময়ের কাজটি নিয়ে তারাও জটিল অবস্থায়। তারপরও এখন সব ঠিক রেখেই পুকুরের সীমানা সৌন্দর্য করাসহ মসজিদটি ব্যবহার উপযোগী করার চেষ্টা তাদের।জানা গেছে, ৪৩ শতাংশ জায়গায় ১২ কোটি ২৩ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথম কার্যাদেশ পায় ঠিকাদার এস আলম এন্টারপ্রাইজ। ১৫ মাস মেয়াদি তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটির কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৩ সালের ৫ জুন কার্যাদেশ বাতিল হয়। কিন্তু প্রথম দফায় ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল সাইট হস্তান্তর ও পুনরায় কার্যাদেশ পায় আতাউর রহমান খান লিমিটেড ও অসীম সিংহ জেভি।দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা জানান, যেহেতু হয়ে গেছে তাই এই জায়গায় যাতে এটি সচল করা যায়, মানুষ যাতে প্রবেশ করতে পারে পুকুরের পাশ ঘেঁষে আমরা সেটির ব্যবস্থা করছি। তিনি বলেন, উপজেলায় পদ্মপুকুর নামে আরও একটি পুকুর ছিলো যেটি ভরাট করে স্থাপনা হয়ে গেছে সেটির বিষয়েও অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু ভরাট তো হয়েই গেছে। তাই এই পুকুর ভরাট না করেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।আরও পড়ুন: নেত্রকোনার হাওড়ে ফসল রক্ষা বাঁধই এখন ফসলের গলার কাঁটানেত্রকোনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.ফারজান আনোয়ার বলেন, ‘আমি এসে যেটি শুনেছি যে ঠিকাদার মারা যাওয়ায় পরে আবার টেন্ডার করা হয়। এখন হয়ে গেছে তাই আগে যে পুকুরের সড়কটি ছিল আমরা সেটি ধরেই কাজ করার প্লান করা হচ্ছে। যাতে পুকুরের কোনো সমস্যা না হয় এবং পুকুরেরও সৌন্দর্যবর্ধন হয়, মানুষ চলাচলও করতে পারে আমরা সেটির প্লান করেই করার চেষ্টা করব।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে গণপূর্ত বিভাগের বাস্তাবায়নে দুই দফায় সর্বমোট ১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে গেল ৭ বছরে নির্মাণ হয় মসজিদটি।

Go to News Site