Somoy TV
সমঝোতার পর অবশেষে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। রোববার (১৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও তেলবাহী লরি মালিকপক্ষের মধ্যে সমঝোতার পর তারা অবরোধ তুলে নেন।এর আগে দুপুর ২টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় সহপাঠী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।জানা গেছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া সেতু এলাকায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাহিদুল ইসলাম তামিম তামিম হোসেন একটি তেলবাহী ট্যাংক লরির সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।ঘটনার পর দ্রুত সমাধানের আশ্বাস পেলেও দীর্ঘ সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে আসেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানান।আরও পড়ুন: ববি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ, দুর্ভোগদাবিগুলো হলো: বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, দুর্ঘটনায় জড়িত চালককে গ্রেফতার, মহাসড়কে স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন এবং আহত শিক্ষার্থীর যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না। এতে পুরো মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।পরবর্তীতে বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতি এবং বিভাগীয় শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।আরও পড়ুন: প্রশাসনকে ‘মৃত ঘোষণা’ করে ববি শিক্ষার্থীদের অভিনব প্রতিবাদবৈঠকে আলোচনা শেষে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য মালিকপক্ষ ও শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মোট ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আহত শিক্ষার্থীর পক্ষে তার বাবা শহিদুল ইসলাম মৃধা এই অর্থ গ্রহণ করেন।এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছানো হয়েছে। সব পক্ষের আন্তরিকতায় একটি সমঝোতা হয়েছে।’সমঝোতা হওয়ার পর বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান এবং প্রায় ৫ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
Go to News Site